Friday, March 13, 2026

SIR বন্ধের দাবি, সোমে মিছিল BLO-দের: একশো শতাংশ অধিকার আছে, দাবি তৃণমূলের

Date:

Share post:

নির্বাচনের টার্গেট পূরণ করতে বোঁড়ে রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। ভুল হলে বিজেপির চাপে চাকরি যাওয়া বা গ্রেফতারির হুমকি। এই পরিস্থিতিতে কেরলে আগেই বিক্ষোভ মিছিলের পথে গিয়েছেন সেখানকার বিএলও-দের সংগঠন। এবার মিছিলে রাজ্যের বিএলও-দের (BLO) সংগঠন। বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির ব্যানারে সোমবার মিছিল (protest march) করে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) দফতরের বাইরে ধর্না দেওয়া কথা জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিএলও-দের এভাবে পথে নামাকে সমর্থন বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের।

বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির ব্যানারে রাজ্যের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, প্যারা টিচারদের যাঁরা বিএলও হিসাবে কর্মরত তাঁরা পথে নামবেন সোমবার। কলেজ স্ট্রিট থেকে নির্বাচন কমিশন দফতর (Election Commission office) পর্যন্ত মিছিল করবেন। তারপর সেখানে ধর্নায় বসবেন। তাঁদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় এসআইআর (SIR) অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। যদিও এর মধ্যে আবার আরেক শ্রেণির বিএলও এই আন্দোলনের সঙ্গে নেই বলেও জানায়। সেক্ষেত্রে ভাগ তৈরি করে আন্দোলনের ঐক্য ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্য, বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

বিএলও-দের এই আন্দোলনকে সমর্থন করে তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ জানান, যাঁরা বিএলও সমস্যাটা তাদের হচ্ছে। তাঁরা শিক্ষা জগতে রয়েছে বা অন্য কাজে। ঘুরে ফিরে সরকারি কর্মী। তাঁরা যে সমস্যায় পড়ছেন তাঁদের যন্ত্রণা তাঁরাই বুঝছেন। তাঁরা কেউ বলছেন না এসআইআর করব না। তাঁরা বলছেন এই সময়সীমার মধ্যে জোর করে অপ্রস্তুত জমিতে আমাদের কাজ করতে বলা হচ্ছে সেটা টেকনিকালি সম্ভব নয়। মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তার সঙ্গে বিজেপির হুমকি (threat)। আত্মহত্যা করছেন। তাঁরা এই বিষয়টা নিয়ে আপত্তি জানাচ্ছেন। বলা তো দরকারই। একশো শতাংশ তাঁদের অধিকার আছে।

আরও পড়ুন : কমিশনের SIR প্রক্রিয়া বেআইনি: BLO-দের সমস্যা তুলে তোপ কল্যাণের

বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কমিশনের মারফৎ চাপিয়ে দেওয়া এসআইআর বন্ধ করার বিএলও-দের দাবিকেই সমর্থন জানানো হয়েছে তৃণমূলের তরফে। তার কারণ হিসাবে কুণাল জানান, বিএলওদের উপর যে ভয়ঙ্কর চাপ অপরিকল্পিতভাবে, বিজেপির কথায়, অল্প সময়ের মধ্যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে তাতে একটা বড় অংশের বিএলও একটা কর্মসূচি করতেই পারেন। এই পদ্ধতিতে এসআইআর চলার বিরোধিতা করা হচ্ছে। ২০০১ সালে দু আড়াই বছর ধরে এসআইআর (SIR) করা হয়েছিল। যে কাজটা দু আড়াই বছর লাগে, সেটা দুআড়াই মাস দিয়ে যদি বলা হয় এখুনি করো। কখনও ফর্ম (enumeration form) পাওয়া যাচ্ছে না। সার্ভার (server) কাজ করছে না। কখনও অ্যাপ (App) অকেজো হয়ে যাচ্ছে। কখনও ডিজিটালি অত সক্ষম নয়। তার মধ্যে বিজেপি বলছে গ্রেফতার করা হবে বিহারের মতো, চাকরির বারোটা বাজানো হবে। তাতে কেউ যদি এসআইআর বন্ধ করার দাবি জানায় তিনি তো নিজের জীবনের চাপ ও যন্ত্রণা থেকে বলছেন কথাটা।

spot_img

Related articles

হরমুজে ভারতকে ছাড় দিচ্ছে ইরান: প্রতিশ্রুতি ইরানি রাষ্ট্রদূতের

হরমুজ প্রণালী দিয়ে তিন দেশকে ছাড় দেওয়ার পর চতুর্থ দেশ হতে পারে ভারত। শুক্রবার দিল্লিতে ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা...

মাঝপথে থমকাল সুনিধির সুরের সফর: আপাতত পিছল কলকাতার অনুষ্ঠান

লাগাতার সঙ্গীত সফরে ক্লান্ত গায়িকা। লখনউয়ের (Lucknow) মঞ্চে গাইতে গিয়েই গলায় সমস্যা হওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন সুনিধি চৌহান...

ইরাকে ভেঙে পড়ল মার্কিন যুদ্ধ বিমান, বিবৃতি ট্রাম্প সেনাবাহিনীর

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের মধ্যেই পশ্চিম ইরাকে ভেঙে পড়ল আমেরিকার (US Military Aircraft Crash) সামরিক বিমান কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান...

সাত অভিযোগ জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে: ২০০ স্বাক্ষরে ইমপিচমেন্ট পাশ সময়ের অপেক্ষা!

সংসদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট পাশ হওয়া কী সময়ের অপেক্ষা? শুক্রবার তৃণমূলের নেতৃত্বে বিরোধী সাংসদরা...