শেষ তিন মাসে রেকর্ড জিডিপি বৃদ্ধি। আর তাই নিয়ে বিরাট লাফালাফি কেন্দ্রের অর্থ মন্ত্রককে ঘিরে। শুক্রবার কেন্দ্রের এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর মোদি বন্দনায় এক শ্রেণির অর্থনীতিবিদ থেকে মিডিয়া। মার্কিন শুল্ক লাগু হওয়ার পর থেকে যেভাবে ভারতের অর্থনীতিতে (Indian Economy) ধ্বস নামা শুরু হয়েছে, তাতে মৃতসঞ্জীবনীর মতো এই তথ্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। আদতে জিডিপি (GDP) মাপার মাপকাঠিতে যে কলকাঠি নেড়ে রেখেছে কেন্দ্রের মোদি সরকার, তার পর্দাফাঁস করলে ইন্টারন্যাশানাল মনিটরি ফান্ড (IMF)। তার জেরে ভারতের জিডিপি মাপার প্রক্রিয়াকেই ‘সি’ গ্রেড (Grade C) দিলো আইএমএফ।

গত প্রায় ছয়মাস ধরে মার্কিন শুল্কের আতঙ্ক ও চাপে ভারতের অর্থনীতির উপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তার প্রতিফলন হয়েছে ভারতের শেয়ার মার্কেটে। তা সত্ত্বেও সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া তিন মাসের হিসাবে জিডিপি-র বৃদ্ধির (GDP growth rate) গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে দাবি করেছে কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রক। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ভাগে আর্থিক বৃদ্ধি ৪৮.৬৩ লক্ষ কোটি দেখানো হয়েছে, যা আগের অর্ধের থেকে প্রায় ৪ লক্ষ কোটি বেশি। এই বৃদ্ধির হার ৮.২ শতাংশ বলে দাবি কেন্দ্রের। এই হিসাব মার্কিন শুল্ক (US tariff) অগাস্টে লাগু হওয়ার পরের হিসাব।

অর্থনীতিবিদরা যখন এই তথ্যের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তখনই উত্তর দিল আইএমএফ। ভারতের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানকে ‘সি’ গ্রেড বলে দাগিয়ে দেওয়া হল। চারটি মানের মধ্যে শেষ থেকে দু নম্বরে জায়গা দেওয়া হল ভারতের অর্থনৈতিক মাপকাঠিগুলিকে। কোন কোন ক্ষেত্রে সেই মাপকাঠি সঠিক নয় তারও উল্লেখ করা হয় সমালোচনায়। তাঁদের দাবি, এই ভুল মাপকাঠির কারণে গোটা সমীক্ষাটাই প্রভাবিত হয়।

আইএমএফ-এর (IMF) দাবি, ভারতে জিডিপি (GDP) মাপার জন্য এখনও ২০১০-১১ সালের ভিত্তিতে হিসাব হয়। এত পুরোনো ভিত্তিকে গোটা বিশ্ব কবেই পুরোনো বলে দাগিয়ে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও ভারতের ভিত্তি সেই পুরোনোই রয়ে গিয়েছে। ফলত পরবর্তীকালে বিশ্বের অর্থনীতির পরিবর্তনগুলি ভারতের পরিসংখ্যানে বা সমীক্ষায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হতে পারে না। সেই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়, ভারতে এখনও জিডিপি মাপা হয় জিনিসের পাইকারি দামের সূচকের হিসাবে। তাঁদের কাছে উৎপাদকের ধার্য মূল্যের কোনও হিসাবই নেই।

আরও পড়ুন : জন্ম শংসাপত্র তৈরিতে আধার গৃহীত হবে না: নির্দেশ জারি মহারাষ্ট্রে!

তাছাড়াও উৎপাদিত দ্রব্য ও খরচের হিসাব যেভাবে দেখানো হয় তাতেও রয়েছে ভয়ঙ্কর অসঙ্গতি, দাবি আইএমএফ-এর। ব্যয়ের খতিয়ানের তথ্যের দিকে নজর দেওয়া হয় না বলেই পর্যবেক্ষণ তাঁদের। পাশাপাশি ভারতে জিডিপি মাপতে সাধারণ নাগরিক, সরকার ও সংস্থার আয়ের প্রতি নজর দেওয়া হয়। সেই হিসাব রাখা হয়। আবার একই সঙ্গে তাদের ব্যয়ের হিসাবও রাখা হয় জিডিপি মাপার ক্ষেত্রে। এমনকি বিশ্বমানের মাপকাঠির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য নিজেদের পরিসংখ্যানগত পদ্ধতির পরিবর্তনেরও কোনও প্রয়োজন বোধ করেনি ভারত, অভিযোগ আইএমএফ-এর।

–

–

–

–

