Saturday, November 29, 2025

স্কুলের গোলকিপার মাহির হাতে কিপিংগ্লাভস তুলে দেওয়া কেশব আজও খোঁজেন একরোখা দুই চোখ

Date:

Share post:

হাতে আর সময় নেই, শনির রাত পেরোলেই রাঁচি জুড়ে চরম উন্মাদনা। গোটা শহর হামলে পড়েছে একটা টিকিটের জন্য। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ খেলতে নামছে টিম ইন্ডিয়া (Ind vs SA ODI)। আর তিনি, কেশব বন্দ্যোপাধ্যায় (Keshab Banerjee) এই কোলাহল ছেড়ে দিব্যি কলকাতায় বসে আছেন মাস তিনেকের জন্য। কেন জিজ্ঞেস করতে সটান উত্তর, “রাঁচিতে থাকলেও তো কেউ আমাকে ডেকে নিয়ে স্টেডিয়ামে বসিয়ে দিত না।” তাহলে কি ক্রিকেটের প্রতি অনেকটা অভিমান নাকি প্রিয় ছাত্রের প্রতি! তাই বলে এমন নয় যে একটা মহেন্দ্র সিং ধোনি ( MS Dhoni) গড়েই ক্রিকেট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন কেশব। বয়স বেড়েছে। স্কুলের গেম টিচারের চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন অনেকদিন। কিন্তু এখনও তাঁর চোখ খুঁজে চলেছে নতুন কাউকে।

পড়ুয়াদের ডাকে কোচ কেশব স্যার আজও জহর বিদ্যামন্দিরে যাচ্ছেন। কয়েক দশক এখানেই চাকরি করেছেন গেম টিচার হিসাবে। মাঠের এক পাশে তৈরি করা সেই নেট মনে করিয়ে দেয় এখানে দাঁড়িয়েই জোর করে স্কুলের গোলকিপার মাহির হাতে কিপিং গ্লাভস গুঁজে দিয়েছিলেন। গররাজি ধোনিকে বুঝিয়েছিলেন, তোমাকে উইকেটকিপার হতেই হবে। তারপরের ইতিহাস সবার জানা। কিন্তু এতগুলো বছর কেটে গেল আর একটাও মাহির খোঁজ পেলেন না এতদিনে? প্রশ্নটা শুনে ফোনের ওপারে একটা দীর্ঘশ্বাস। তারপর অস্ফুটে ভেসে এল, “নাহ, সেই দিন আর নেই বুঝলেন। বাচ্চারা এখন ইন্টারনেটেই সবকিছু শিখে যাচ্ছে! ব্যাটিং, বোলিং, কিপিং। খুব অবাক লাগে এসব দেখে। এভাবে যদি ক্রিকেটার হওয়া যেত তাহলে আমরা এতদিন কি করলাম? মাহি তো কিপিং গ্লাভস হাতেই তুলতে চাইছিল না। কীভাবে ওকে রাজি করিয়েছি! দিন-মাস-বছর বাদই দিলাম। কোচের উপস্থিতিটাও দরকার পড়ে।”

দ্রুত পরিবর্তনশীল যুগে আজকাল সবাই হাতে গরম রেজাল্ট চায়। আজ আইপিএল (IPL) তো কাল ইন্ডিয়া টিমের জার্সি। কেশবের আফসোস, এভাবে খেলাটা শেখা হয় নাকি? সবকিছু কি এতই সহজ? তাঁর কথায়, ‘জানেন তো বাচ্চাদের মধ্যে সেই চোখ দুটো শুধু খুঁজি। একরোখা দুটো চোখ। যার ভাষা হবে অদম্য, কোনও কিছুই আমাকে থামাতে পারবে না জাতীয় ভাবনা আজ আর দেখতে পাচ্ছি না।’এখন ধোনির সঙ্গে সম্পর্ক কেমন কোচ কেশবের? রাঁচিতে থাকলে ছাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে। ধোনির কাছের বন্ধু চিত্তু, পরমবীরদের সঙ্গেও ক্রিকেট নিয়ে কথা হয়। কিন্তু শহরের লোকজন যখন জিজ্ঞাসা করেন, “স্যার, নতুন কাউকে পেলেন?”, বড় অস্বস্তিতে পড়েন কেশব বন্দ্যোপাধ্যায়। আসলে ৩০ সেকেন্ড রিল দেখার সময় যাদের নেই সেই প্রজন্ম তো মনে করবেই ইন্টারনেট থাকলে MS হওয়া জলভাত। তাই দ্বিতীয় মাহির খোঁজ আজও মেলে না।

 

spot_img

Related articles

রাজ্যকে না জানিয়েই আজ থেকে বদলে গেল রাজভবনের নাম!

দীর্ঘদিন ধরেই রাজভবন থেকে সমান্তরাল শাসন চালানোর অভিযোগ উঠছে বাংলার রাজ্যপালদের বিরুদ্ধে। রাজ্যের শাসকদল প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়...

SIR আতঙ্ক: ফর্ম ফিলাপ নিয়ে আশঙ্কায় আত্মঘাতী পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা

বারবার রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপির তরফ থেকে ভোটার তালিকা সংশোধনীর মধ্যে দিয়ে রাজ্যে এনআরসি চালু করার হুমকি দিয়ে...

সাড়ম্বরে যোগদান মেলা নয়, ‘বেনোজল’ আটকাতে টিকিটের বিনিময়ে দলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিজেপির

টিকিটের আশায় ভোটের আগে পদ্মমুখী রাজনৈতিক দলবদলুরা। কারও ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ে। কেউ কল্কে পান না। তাঁদের মধ্যে আবার...

রো-কো পারফরম্যান্সের দিকে নজর বোর্ডের, বিশ্বকাপ কি ক্রমশ অনিশ্চিত হচ্ছে হিটম্যানদের!

রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের সিরিজ খেলছে নামছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। নেতৃত্ব দেবেন কে এল রাহুল (KL...