Monday, May 11, 2026

রাজ্যকে না জানিয়েই আজ থেকে বদলে গেল রাজভবনের নাম!

Date:

Share post:

দীর্ঘদিন ধরেই রাজভবন থেকে সমান্তরাল শাসন চালানোর অভিযোগ উঠছে বাংলার রাজ্যপালদের বিরুদ্ধে। রাজ্যের শাসকদল প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় (Jagdip Dhankar) ও বর্তমান সি ভি আনন্দ বোসের (C V Anand Bose) বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলে। শুধু তাই নয়, রাজভবন রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে বিজেপি (BJP) বিরোধী দলগুলি। এবার নাম বদলে পদ ও ভবন বাঁচাতে লেগে পড়েছে মোদি সরকার। রাজভবনের নাম শনিবার থেকে করা হয়েছে ‘লোকভবন’ (Lok Bhavan)। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নাম বদল বলে জানিয়েছেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। সিদ্ধান্তের পরেই রাজভবন থেকে রাজ সরিয়ে লোক করেছে আনন্দ বোস। তবে, এই বিষয়ে রাজ্যকে কিছুই জানানো হয়নি বলে খবর। বিরোধীদের মতে, লোকভবন নাম রেখে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাল চালতে চাইছেন আনন্দ বোস।

এ দিন নিজেই রাজভবন লেখা বিভিন্ন ফলক সরিয়ে লোকভবন (Lok Bhavan) লেখা ফলক লাগিয়ে দেন রাজ্যপাল৷ তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান করাই রাজভবনের মূল উদ্দেশ্যই। সেইকারণেই নাম বদলের সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ শুধু পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) নয়, দেশের সব রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলেই রাজভবনের নাম বদলে লোকভবন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা৷

বাংলার রাজ্যপালে দায়িত্ব নিয়ে আসার পরে ২০২৩ রাজভবনের (Rajbhavan) নাম সাময়িকভাবে ‘জন রাজ ভবন’ করেন আনন্দ বোস। সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সেই দিন থেকেই ভবনের দরজা খুলে দেওয়া হয় ছাত্রছাত্রী, শিল্পী, কৃষক, শ্রমিক, এবং বিপর্যস্ত পরিবারের জন্য। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে রাজভবনের প্রতীকী চাবি তুলে দেওয়া একটা মাইলস্টোন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও, রাজভবনে খোদ আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে মহিলা কর্মীর শ্লীলতাহানি অভিযোগ ওঠার পরে কটাক্ষ করে মমতা বলেছিলেন, কখন একা রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করবেন না।
আরও খবরSIR আতঙ্ক: ফর্ম ফিলাপ নিয়ে আশঙ্কায় আত্মঘাতী পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা

তবে, বারবারই রাজভবনের বিরুদ্ধে সমান্তরাল প্রশাসন চালানোর অভিযোগ ওঠে। রাজ্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নবান্নের পাশাপাশি রাজভবনও টিম পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় আঘাতের অভিযোগ তোলে রাজ্যের শাসকদল। রাজভবনে যৌক্তিকতা কী? বিভিন্ন সময় এই প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্র নিজেদের লোক বসিয়ে রাজ্য সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির জন্যেই এই পদ রেখেছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল বারবার, রাজভবনকে বিজেপির দ্বিতীয় সদর কার্যালয় বলে অভিযোগ তুলেছে। এই পরিস্থিতি এই নামবদল আরও বিতর্ক উস্কে দিল। বিশেষ করে রাজ্যকে না জানিয়ে এই বদল নিয়ে জলঘোলা হবে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এ বিষয় নিয়ে তৃণমূলের (TMC) রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, ভারতীয় সংবিধানে রাজ্যপালের এক্তিয়ার নির্দিষ্ট করা আছে। তিনি সেই গণ্ডীর মধ্যে থাকলেই আর সমস্যা হয় না। কুণালের অভিযোগ, বিজেপি নিজেদের লোক বসিয়ে তাঁদের উপর চাপ দিয়ে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করে।  এর পরেই দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিতে রাজভবনের গুরুত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

Related articles

আবারও বিজেপির আগুন-সন্ত্রাস! খেজুরিতে পরপর পুড়ে ছাই দোকান 

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মতো খেজুরিতেও রাজনৈতিক হিংসার ছবিটা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। গত...

জ্বালানি সংকট: মানলেন মোদি, দেশাত্মবোধের নামে লকডাউন পরিস্থিতি ফেরানোর বার্তা!

গোটা বিশ্বে জ্বালানি সংকট চলাকালীন ভারতের বিজেপি সরকার বারবার এই দেশে জ্বালানির সংকটের কথা অস্বীকার করার চেষ্টা চালিয়ে...

শান্তিকুঞ্জের সামনে ব্রোঞ্জের বাঘ! প্রিয় নেতার জন্য অভিনভ উপহার নিয়ে হাজির দমদমের উত্তম 

রাজনীতিতে কখনও তিনি ‘মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র’, কখনও আবার স্রেফ ‘দাদা’। তবে তাঁর অনুরাগীদের চোখে তিনি ‘বাংলার বাঘ’। সেই আবেগকে...

বুধবার থেকে শুরু বিধায়কদের শপথগ্রহণ, প্রোটেম স্পিকারের দৌড়ে তাপস রায় 

নতুন সরকারের পথ চলা শুরুর পর এবার বিধানসভায় তৎপরতা শুরু হল পরিষদীয় প্রক্রিয়ার। আগামী বুধবার থেকে শুরু হতে...