সোনাগাছিসহ রাজ্যের বিভিন্ন যৌনপল্লিতে বসবাসকারী যৌনকর্মীদের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা সমস্যায় অবশেষে সরাসরি হস্তক্ষেপ করল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। এনিউমারেশন ফর্ম নিয়ে আশঙ্কা ও তথ্যগত জটিলতার অভিযোগ সামনে আসতেই বিশেষ ক্যাম্প করে হিয়ারিং ও নথি যাচাইয়ের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছে কমিশন।

গত ২১ নভেম্বর সোনাগাছির যৌনকর্মীদের একাধিক সমস্যা নিয়ে তিনটি সংগঠন ইমেলের মাধ্যমে অভিযোগ জানান সিইও দফতরে। অভিযোগ পাওয়ার পরই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানান, সোনাগাছিসহ রাজ্যের বিভিন্ন যৌনপল্লিতে বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে হিয়ারিং করা হবে এবং তিনি নিজেও এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। এরপর আবার উঠে আসে এনিউমারেশন ফর্ম ফিলআপ সংক্রান্ত জটিলতার অভিযোগ। ‘আমরা পদাতিক’-এর অন্যতম সংগঠক মহাশ্বেতা মুখোপাধ্যায় জানান, শহরের বিভিন্ন যৌনপল্লিতে বহু যৌনকর্মী ভয় ও তথ্যের অভাবে ফর্ম পূরণ করতে দ্বিধায় পড়ছেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই কমিশন জানায়, জেলার ডিইও ও ইআরও-রা সরাসরি যোগাযোগ করে বিশেষ আধিকারিকদের মাঠে নামাবেন।

শনিবার সিইও দফতরে গিয়ে মহাশ্বেতা মুখোপাধ্যায় ও সোনাগাছির এক যৌনকর্মী লিখিতভাবে জানান, শেঠবাগান, রামবাগান, জোড়াবাগান, খিদিরপুর, কালিঘাট ও বউবাজারের যৌনপল্লিগুলিতে ফর্ম পূরণ নিয়ে নানা অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছেন তাঁরা। প্রতিটি এলাকার বিধানসভা কেন্দ্র ও পার্ট নম্বর উল্লেখ করে ২ ডিসেম্বর বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়। জবাবে সিইও দফতর জানায়, ২ ও ৩ ডিসেম্বর বিশেষ আধিকারিকদের ওই সব এলাকায় পাঠানো হবে, যাতে কোনও যৌনকর্মী ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বাদ না পড়েন। মহাশ্বেতা মুখোপাধ্যায় জানান, বহু যৌনকর্মী ভয়ের কারণে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছিলেন। কমিশনের এই উদ্যোগ তাঁদের আবার ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে তিনি আশা করছেন।

আরও পড়ুন- পুরসভার হাজিরায় আসছে ডিজিটাল যুগ! জিও-ট্যাগিংয়ে নথিভুক্ত হবে উপস্থিতি

_

_

_

_

_

_

