Saturday, December 20, 2025

পাকিস্তানে বন্দি কাঁথির মৎস্যজীবীর অস্বাভাবিক মৃত্যু! শোকস্তব্ধ গ্রাম

Date:

Share post:

পাকিস্তানের কারাগারে প্রায় দু’বছর ধরে বন্দি থাকার পর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর এল পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুটের মৎস্যজীবী স্বপন রানা (৫৫)-র। সীমান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে পাক পুলিশের হাতে আটকের পর থেকে তাঁর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি পরিবারের। মৃত্যুর কারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রশাসন থেকে গ্রামবাসীর মধ্যে। আগামী ৪ ডিসেম্বর পাকিস্তান ওই মৎস্যজীবীর দেহ ভারত সরকারের হাতে তুলে দেবে বলে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, দক্ষিণ ডাউকি গ্রামের বাসিন্দা স্বপন রানা বহু দিন ধরেই পেশায় মৎস্যজীবী ছিলেন। মাঝখানে তিনি সোনার ব্যবসায় নামলেও লোকসানের কারণে দোকান বন্ধ করে ফের ট্রলারেই মাছ ধরার কাজে যোগ দেন। দু’বছর আগে কেরালার একটি ট্রলারে যোগ দিয়ে পরে গুজরাট থেকে আরও ছ’জনের সঙ্গে মাছ ধরতে বের হন তিনি। অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করায় পাকিস্তানি মেরিন পুলিশ তাঁদের আটক করে। এরপর দীর্ঘ সময় পরিবার কোনও যোগাযোগই পায়নি।

অনেক চেষ্টার পর স্বপনবাবুর স্ত্রী টুটুরানি রানা জানতে পারেন, স্বপন পাকিস্তানের জেলেই রয়েছেন। মাঝে কয়েকবার হোয়াটসঅ্যাপে ছেলের সঙ্গে দু’-তিন মিনিট কথা বলতে পেরেছিলেন তিনি। শেষ কথা হয় প্রায় পাঁচ-ছ’মাস আগে। কোথায় তাঁকে রাখা হয়েছে, কী অবস্থায় বন্দি ছিলেন—তা কিছুই জানানো হয়নি। স্বপনের ছেলে চন্দ্রকান্ত রানা বলেন, “একজন পরিচিত মেসেজ করে বিষয়টা জানায়। পরে প্রশাসনের আধিকারিকেরা এসে বাবার মৃত্যুর খবর দেন। কীভাবে মৃত্যু হল, কিছুই জানি না।”

এখনও পাকিস্তানে বন্দি রয়েছেন ভারতের আরও ছ’জন মৎস্যজীবী। তাঁদেরও ভাগ্যে কী অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে শঙ্কিত পরিবারেরা। মৃতদেহ আনতে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শুরু করেছে প্রশাসন। কাঁথি ১ ব্লক প্রশাসনের আধিকারিক থেকে মেরিন দফতরের কর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তান সরকার স্বপনের মৃত্যুর বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছে। মৃতদেহ আনার সমস্ত খরচ সরকারই বহন করবে। গ্রামজুড়ে এখন শোকের ছায়া। আত্মীয় থেকে প্রতিবেশীরা কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না পাকিস্তানের জেলেই শেষ হয়ে গেল স্বপন রানার জীবন। প্রতিবেশী দিপালী রানা বলেন, “দু’বছর আগে পাকিস্তানের হাতে ধরা পড়েছিল। ওখানেই সব শেষ।” আর এক আত্মীয় পূর্ণিমা রানা জানালেন, “সোনার দোকান বন্ধ করে আবার ট্রলারে কাজ শুরু করেছিলেন। কে জানত এমন পরিণতি অপেক্ষা করছে!” স্বপনের স্ত্রী টুটুরানীর চোখে শুধু একটাই প্রশ্ন—“কবে ফিরবে ওর দেহ?” বাড়ির আঙিনায় অপেক্ষা এখন শুধু শেষ বিদায়ের।

আরও পড়ুন- আইনি লড়াইয়ের মাঝে মৃত্যু! বাবাকে শেষবার দেখাও হল না মেয়ের

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

spot_img

Related articles

শ্যুটিং ফ্লোর থেকে সোজা হাসপাতাল, দ্বিতীয়বার পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন ভারতী

কমেডিয়ান ভারতী সিং ও হর্ষ লিম্বাচিয়ার সংসারে নতুন মানুষের আগমন। ‘লাফটার শেফস’ নামের এক টেলিভিশন শোয়ের শ্যুটিং করতে...

সেবাশ্রয়-২: আজ বজবজের মডেল ক্যাম্পে পরিষেবা পর্যবেক্ষণে অভিষেক 

সেবার আলোর সুস্বাস্থ্যের পথ আলোকিত করা লক্ষ্য নিয়ে ডিসেম্বরের পয়লা তারিখ থেকে শুরু হয়েছে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের...

মুজিবের বাড়ির উপর ISIS পতাকা! সাংবাদিকদের রক্ষার বার্তা রাষ্ট্রসঙ্ঘের

একের পর এক সংবাদপত্রের দফতরে আগুন। সাংবাদিক হত্যা। বাংলাদেশে বাক-স্বাধীনতার নিকৃষ্টতম নজির রচিত হয়েছে বৃহস্পতিবার রাতে। এবার বাংলাদেশ...

বাংলায় হিংসা ছড়াচ্ছে অমিত মালব্য: পুলিশের দ্বারস্থ তৃণমূল

প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে কোনও রকম অশান্তি হলে তার আঁচ সবার আগে পড়ে বাংলায়। সেই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে...