সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের আগেই শাসক-বিরোধী উত্তাপের আঁচ টের পাচ্ছে দিল্লি। একদিক বিরোধীরা যখন একজোট হয়ে দেশের জ্বলন্ত ইস্যুগুলি নিয়ে সংসদে (Parliament) আলোচনা চাইছে, তখন তা নিয়ে আলোচনা যে এড়িয়ে যেতে চাইছে কেন্দ্রের স্বৈরাচারী বিজেপি সরকার, তা শীতকালীন অধিবেশনের (winter session) আগে সর্বদল বৈঠকেও খানিকটা স্পষ্ট হয়ে গেল। গত অধিবেশনের প্রসঙ্গ টেনে সেখানে তৃণমূল সাংসদদের প্রশ্ন, তবে সংসদে বিরোধীদের প্রয়োজন কোথায়, যদি সংসদ শুধুমাত্র শাসকের কথাতেই চলে।

সোমবার সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে রবিবার সর্বদল বৈঠক (all party meeting) ডাকেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju)। দেশের ৩৬ টি রাজনৈতিক দলের ৫০ জনের বেশি প্রতিনিধি এই বৈঠকে যোগ দেন। স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীদের তরফ থেকে সংসদের অধিবেশনে এসআইআর (SIR) নিয়ে আলোচনার দাবি জানানো হয়। প্রায় প্রতিটি বিরোধী দলই এই বিষয়ে সংসদে আলোচনার দাবি জানান। সেই প্রসঙ্গে কিরেন রিজিজু দাবি করেন, কোনও রাজনৈতিক দলই এসআইআর নিয়ে আলোচনায় সংসদ অচল করার দাবি জানাননি। এই ইস্যুতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার দাবি কিছু রাজনৈতিক দলের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে। সর্বদল বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলি জানিয়েছেন, এসআইআর নিয়ে আলোচনা না হলে তাঁরা সংসদের অধিবেশন স্থগিত করে দেবেন যেন তেন প্রকারে, এমনটা নয়।

নিজের এই বক্তব্যে কার্যত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন যে এসআইআর (SIR) নিয়ে সংসদের (Parliament) শীতকালীন অধিবেশনে (winter session) আলোচনা নাও হতে পারে। আর সেখানেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্য়াণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তাঁর প্রশ্ন, আগের অধিবেশনগুলিতে তৃণমূলের তরফ থেকে এসআইআর, মনরেগা নিয়ে আলোচনার দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই আলোচনা করতে দেওয়া হয়নি। স্পিকার জানিয়েছিলেন সরকারপক্ষ চায়নি, তাই আলোচনা হয়নি। যদি সংসদ শুধু সরকারপক্ষের ইশারায় কাজ করে, তবে বিরোধী দলগুলির থাকার কী প্রয়োজন?

কার্যত স্বৈরাচারী যে মনোভাব বিজেপির নেতারা পোষণ করেন, তারই প্রতিফলন তাঁরা সংসদেও দেখান, এখানে সেটাই প্রমাণিত। যদিও আলোচনার দাবিতে সংসদ অচল করার পক্ষে যে নয় তৃণমূল কংগ্রেস, তাও সর্বদল বৈঠক শেষে স্পষ্ট করে দেন তৃণমূল নেতৃত্ব। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সংসদের কার্যক্রম চালাতে আমরা সবরকমভাবে সহযোগিতা করব যদি সংসদের ট্রেজারি বেঞ্চও আমাদের সমানভাবে সহযোগিতা করে। সেই সঙ্গে দাবি জানান, বিরোধীদের কথা বলার জন্য যেন আরও বেশি সময় বরাদ্দ করা হয়। যে কোনও বিল পেশ করার আগে নোটিফিকেশনেই যেন বেশি সময় দেওয়া হয়, যাতে আলোচনার জন্য বিরোধীরাও তাঁদের পক্ষ থেকে প্রস্তুত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন : ন্যাশানাল হেরল্ড মামলা: সোনিয়া-রাহুলের নামে FIR, প্রতিশোধ রাজনীতি দাবি কংগ্রেসের

রবিবারের সর্বদল বৈঠকে তৃণমূলের পাশাপাশি কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিও এসআইআর ইস্যুকে সংসদে আলোচনার দাবি জানায়। পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তার ইস্য়ু নিয়েও বিরোধীদের তরফে আলোচনার দাবি জানানো হয় সর্বদল বৈঠকে। সিপিআইএম সাংসদ থেকে কংগ্রেস সাংসদরা দিল্লি বিস্ফোরণের ইস্য়ুতে আলোচনার দাবি জানান।

–

–

–

–

