Sunday, January 18, 2026

নির্বাচনের হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের! বিজেপির মুখোশ-ধারী নেতার অবস্থান বোঝালো তৃণমূল

Date:

Share post:

ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে নির্বাচনের মঞ্চ তৈরির চেষ্টা ভতরপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের। শনিবার সংহতি দিবসে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে নতুন করে বাংলার সম্প্রীতির পরিস্থিতিকে নাড়া দিয়েছেন হুমায়ুন (Humayun Kabir)। তবে সেখানেই তিনি থেমে থাকেননি। দাবি করেছেন, তাঁর সঙ্গে রাজ্যের, এমনকি দেশের একাধিক রাজনৈতিক দল তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে নির্বাচনের আগে। বাস্তবে এই রাজনৈতিক সুড়সুড়ি যে ২০২৬ নির্বাচনে বাংলার নির্বাচনে (West Bengal election 2026) প্রভাব ফেলবে না, স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা (Shashi Panja)। শূন্যের হাত ধরা হুমায়ুনকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।

বাবরি মসজিদ তৈরির পরে ২২ ডিসেম্বর নতুন দল ঘোষণা করবেন হুমায়ুন কবীর, ঘোষণা করেছিলেন। ২০২৬ নির্বাচনের আগে তৃণমূল যে নেতাকে সাসপেন্ড (suspend) করেছে তার নতুন দল নিয়ে যে এতটুকু ভাবিত নয় তৃণমূল, তা স্পষ্ট করে মন্ত্রী শশী পাঁজা দাবি করেন, ২০২১-এর আগেও কিছু মানুষ তৃণমূল কংগ্রেস থেকে অনেক স্বপ্ন হাওয়াই জাহাজ নিয়ে চলে গিয়েছিলেন বিজেপিতে (BJP)। তাঁদের ভবিষ্যৎটা দেখিয়ে দিয়েছে রায় দিয়ে বাংলার মা-মাটি-মানুষ। এবারেও কয়েকজন তাঁদের ব্যক্তিস্বার্থ নিয়ে যাচ্ছেন। তাহলে তার দায়িত্ব তাঁরা নেবেন। ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে কেউ কেউ মনে করছেন দল ছাড়বেন। দলই ছেড়ে দিয়েছে তাঁদের।

সেই দল গঠনের আগে না কি আসাদুদ্দিন ওয়াইসির মিম (AIMIM), মহারাষ্ট্রের কংগ্রেসের হাত ছাড়া নেতা প্রফুল প্যাটেল (Praful Patel) যোগাযোগ করেছেন তাঁর সঙ্গে। সেই সঙ্গে বাংলার কংগ্রেস ও সিপিআইএম নেতাদের নাম উল্লেখ করে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের দাবি করেন তিনি। বাংলার শূন্যের পথে যাওয়া দলের সঙ্গে হুমায়ুনের যোগাযোগে কুণাল ঘোষের কটাক্ষ, হুমায়ুন কাজের জোট গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর বিষয়। কিন্তু কাদের সঙ্গে জোট বাঁধার কথা বললেন। কংগ্রেস (Congress) সিপিআইএম-এর (CPIM) ভোট কত, যাদের সঙ্গে জোট বাঁধতে চাইলেন। সিপিএম-কে ছাড়ব মানে কি, শূন্যকে ধরা আর ছাড়া।

আরও পড়ুন : বেলডাঙায় ভিত্তিপ্রস্তর মসজিদের: হেলিপ্যাডও হবে, দাবি হুমায়ুনের

নির্বাচনের আগে ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে যেভাবে মাঠে নেমেছেন হুমায়ুন, তার সঙ্গে বিজেপির ধর্মীয় উস্কানির সঙ্গে হুবহু মিল। সেই প্রসঙ্গে কুণাল বিজেপির উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দিয়ে দাবি করেন, সারাভারত বুঝতে পেরেছে যে বিজেপিকে এগোতে গেলে বিজেপি পারছে না। সংখ্য়াগরিষ্ঠ হিন্দু বিজেপিকে সমর্থন করে না। তাহলে মুসলিম ভোট ভাগ করতে হবে। সেটা বিজেপি পারবে না। তাই বিজেপিরই পৃষ্ঠপোষকতায় কিছু বিজেপি বিরোধী-মুখোশ তৈরি থাকবে। তারা ভোট কেটে আখেরে বিজেপির কীভাবে সুবিধা করতে পারবে, সেটা আখেরে বিজেপিই ঠিক করে দেবে।

spot_img

Related articles

এসআইআর চলাকালীন অশান্তি ঠেকাতে রাজ্যকে সতর্ক করল কমিশন

রাজ্যে চলমান এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়ার সময় সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন রাজ্য সরকারের দিকে সতর্কবার্তা...

এসআইআর আতঙ্কের জের! শান্তিপুর ও নামখানায় মৃত ২

বাংলায় এসআইআর-বলির সংখ্যা দীর্ঘতর হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তুঘলকি সিদ্ধান্তের জোরে প্রতিদিনই মৃত্যু হচ্ছে সাধারণ মানুষের। নদিয়া ও দক্ষিণ...

মোদির সফরে বদলে গেল মালদহ টাউন স্টেশন! নিরাপত্তার চাপে প্রশ্নের মুখে জীবিকা

চিরচেনা কোলাহল, যাত্রীদের ভিড় আর হকারদের ডাক—এই দৃশ্যেই অভ্যস্ত মালদহ টাউন স্টেশন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra...

প্রহসনে পরিণত হয়েছে হেনস্থার এই হিয়ারিং! অভিযোগ জানিয়ে কমিশনের দফতরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল

বাংলা জুড়ে এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) সংক্রান্ত শুনানি কার্যত হেনস্থার রূপ নিয়েছে—এই অভিযোগ তুলে শনিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের...