Thursday, June 18, 2026

বড়সড় পরীক্ষার সামনে নির্বাচন কমিশন, কলকাতায় নো-ম্যাপিং বেড়ে সর্বোচ্চ 

Date:

Share post:

রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য—২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তথ্যের মিল না-থাকা বা ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটারের সংখ্যায় কলকাতা রয়েছে শীর্ষে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে নো-ম্যাপিংয়ের হার শহরের অন্য যেকোনও অংশের তুলনায় অনেক বেশি।

রাসবিহারীতে নো-ম্যাপিংয়ের হার ১৩ শতাংশ, যা কলকাতায় সর্বোচ্চ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরে এই হার ১২ শতাংশ। কলকাতা বন্দর ও বালিগঞ্জে যথাক্রমে ১১ ও ১০ শতাংশের কাছাকাছি। অন্যদিকে জোড়াসাঁকোয় ৭৩ হাজারেরও বেশি ভোটারের নাম ‘নিখোঁজ’, ‘স্থানান্তরিত’ ও ‘মৃত’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

জেলা স্তরে উত্তর ২৪ পরগনায় নো-ম্যাপিংয়ের হার ৮.৫ শতাংশ, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তা নেমে এসেছে ৩.২ শতাংশে। কমিশনের মতে, এত উচ্চ হারে নো-ম্যাপিং পুরনো ভোটার তালিকার ত্রুটির প্রতিফলন হলেও এর মাধ্যমে সংশোধন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে। এই ভোটারদের উৎস খুঁজে বের করতে এনুমারেশন ফর্ম, ২০০২ সালের ভোটার তালিকা, আধার, জন্ম-মৃত্যু রেজিস্টার সহ একাধিক সরকারি তথ্যভান্ডারের সহায়তা নিতে হবে।

ইতিমধ্যেই সব জেলা নির্বাচন আধিকারিক (ডিইও) ও ইআরওদের বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। লক্ষ্য—কোনও যোগ্য ভোটার যাতে তালিকা থেকে বাদ না পড়েন এবং কোনও অযোগ্য ভোটার যাতে তালিকায় ঢুকে না পড়েন।

২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে মিল না-থাকা ভোটারদের পাশাপাশি, যেসব ভোটারদের বাবা–মায়ের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের বেশি—তাঁদেরও শুনানিতে ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে এসআইআরের দ্বিতীয় পর্ব। প্রথম পর্বে সংগৃহীত অসংগতি ও অভিযোগের ভিত্তিতেই ব্যক্তিগত শুনানির তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে এখন পর্যন্ত ৫৭ লক্ষ ৫২ হাজার ২০৭টি এনুমারেশন ফর্ম ‘আনকালেক্টেবল’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত ২৪ লক্ষেরও বেশি ভোটার, নিখোঁজ ১১ লক্ষ ৫৭ হাজারের অধিক, আর অন্যত্র স্থানান্তরিত প্রায় ১৯ লক্ষ ৯০ হাজার। ডুপ্লিকেট ভোটারও ধরা পড়েছেন ১৩ লক্ষের বেশি। ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া শুনানি হবে কড়া নজরদারিতে—শুধুমাত্র জেলা শাসকের দফতরেই হিয়ারিং করা যাবে, অন্য কোনও সরকারি ভবনে নয়। পুরো প্রক্রিয়া ওয়েব কাস্টিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার এবং ভিডিও সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রশাসনিক মহলের মতে, এই শুনানি পর্বের ওপরই নির্ভর করবে খসড়া তালিকা সংশোধনের চূড়ান্ত রূপরেখা। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরিতেই এই ধাপ রাজ্যের কাছে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন – ব্রিগেডে চিকেন প্যাটিস বিক্রির জন্য মারধর! প্রতিবাদ পরমব্রতর

_

 

_

 

_

Related articles

সমস্যার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত লেনদেন নয়! তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের দাবিতে ব্যাঙ্ককে চিঠি কোষাধ্যক্ষ অরূপের 

তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য ব্যাঙ্ককে চিঠি লিখলেন দলের কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas)। HDFC ব্যাঙ্কের...

বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না হাইকোর্ট

রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নামই থাকছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলায় বৃহস্পতিবার...

বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা অরূপের, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ 

মেসি কাণ্ডে তিনবার তলব এড়ানোর পর বৃহস্পতিবার সকাল ৯:৫৫ মিনিট নাগাদ বিধাননগর দক্ষিণ থানায় (Bidhannagar South Police) হাজিরা...

আজ জয়েন্টের ফলপ্রকাশ, ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে র‍্যাঙ্ক কার্ড

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হতে চলেছে রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজামিনেশনের ফল (WBJEE 2026 Results)। গত ২৪ মে অফলাইনে ওএমআর শিটে...