চরম অমানবিকতার অভিযোগ নেতাজি নগরের একটি বেসরকারি স্কুলে যেখানে তৃতীয় শ্রেণীর অসুস্থ পড়ুয়াকে ছয়টি পিরিয়ড ক্লাস করতে বাধ্য করার অভিযোগ। শেষে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে অসুস্থ পড়ুয়া পড়ে গেলে সে কোমায় চলে যায়। গত রবিবার মৃত্যু হয় (student death) তৃতীয় শ্রেণীর ওই পড়ুয়ার (class III student)। এরপর স্কুলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সামিল অভিভাবকরা। এই ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার (negligence) অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা। স্কুল কর্তৃপক্ষকে (school authority) আড়াল করার চেষ্টা করছে পুলিশ, অভিযোগ অভিভাবকদের।

গত ১৩ মে স্কুলের গরমের ছুটি যেদিন পড়ে সেদিন স্কুলে প্রথম পিরিয়ডের সময় অসুস্থ বোধ করে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র আয়ুষ কুমার নাথ। তা সত্বেও অভিযোগ বিজ্ঞানের শিক্ষক তাকে মাথা নিচু করে বসে থাকতে বাধ্য করেন। এবং সেই অবস্থায় ছয়টি পিরিয়ড ক্লাস করে আয়ুষ পরে ভারী ব্যাগ নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় সে পড়ে যায়। এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পায়।

আয়ুষের বাবা আশিস কুমার নাথ অভিযোগ করেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁর ছেলের অসুস্থতা নিয়ে কোনও খবর দেননি। তাকে তিনি স্কুলে ছেলেকে আনতে গেলে দেখেন শিক্ষকরা তার গালে চড় মেরে তার জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করছে। দ্রুত তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই কোমায় চলে যায় আয়ুষ। রবিবার এসএসকেএম হাসপাতালে আয়ুষের মৃত্যু (student death) হয়। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্কুলের অভিভাবকরা।

নেতাজি নগর থানায় (Netaji Nagar police station) অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষকদের গ্রেফতারির উদ্যোগ নেয়নি, অভিযোগ অভিভাবকদের। স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরায়, আয়ুষের পড়ে যাওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে। কিন্তু তার আগে কী ঘটেছিল, সেই ফুটেজ স্কুলের তরফ থেকে দেখানো হচ্ছে না, বলে অভিযোগ করা হয়। সেই সঙ্গে অভিভাবকদের অভিযোগ, এই সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV footage) পাওয়া যাচ্ছে না বলে প্রথমে পুলিশের তরফে দাবি করা হয়। পরে পুলিশ জানায় ফুটেজ পাওয়া গেছে। অথচ তারপরেও কোনও গ্রেফতারি না হওয়ায় মঙ্গলবার ও বুধবার লাগাতার আন্দোলনের নামেন অভিভাবকরা। শুধুমাত্র বিজ্ঞানের শিক্ষককে সমন পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন : সীমান্তে BSF-কে জমি দিয়ে শাহর প্রশংসা কুড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

এই ঘটনার জেরে টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী (Papiya Adhikari) নেতাজি নগর থানায় (Netaji Nagar police station) অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। তাঁদের দাবি, যেভাবে পুলিশ কী ঘটেছিল সেই সঠিক তথ্য জানানো নিয়ে দ্বিচারিতা করছে, সেভাবে গ্রেফতারি নিয়ে স্থানীয় বিধায়ক পুলিশের উপর কোনও চাপ প্রয়োগ করছেন না। গোটা ঘটনায় তদন্ত করে অপরাধীদের গ্রেপ্তারির দাবি জানিয়েছেন স্কুলের অভিভাবকরা।

–

–
–
–
