Saturday, February 21, 2026

নির্বাচনী বন্ড বন্ধের পরও অনুদান বিতর্ক, সরকারি তথ্যে বিজেপির দখলে ৮২ শতাংশ 

Date:

Share post:

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচনী বন্ড ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার পরও রাজনৈতিক অনুদান ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল। সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রাজনৈতিক দলগুলির প্রাপ্ত মোট অনুদানের সিংহভাগই গিয়েছে বিজেপির ঝুলিতে। মোট ৩৮১১ কোটি টাকার অনুদানের মধ্যে ৩১১২ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৮২ শতাংশই পেয়েছে বিজেপি। এই তথ্য সামনে আসতেই বিরোধী শিবিরে প্রশ্ন উঠেছে কেন্দ্রের শাসক দলের ভূমিকা ও নৈতিকতা নিয়ে।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনী বন্ড ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে ২০২৪ সালে তা বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তার পরেও ইলেক্টোরাল ট্রাস্টের মাধ্যমে অনুদান সংগ্রহে কোনও ভাটা পড়েনি। বরং সরকারি হিসেব অনুযায়ী, এই খাতে অনুদান বেড়েছে প্রায় ২০০ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে যেখানে অনুদানের অঙ্ক ছিল ১২১৮ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮১১ কোটি টাকায়।

নির্বাচন কমিশনের কাছে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত জমা পড়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯টি নিবন্ধিত ইলেক্টোরাল ট্রাস্টের মধ্যে ৯টি ট্রাস্টের অনুদান সংক্রান্ত রিপোর্টে এই বিপুল অঙ্কের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে বিজেপিই সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে। কংগ্রেস পেয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা, আর অন্যান্য বিরোধী দলগুলি মিলিয়ে পেয়েছে আনুমানিক ৪০০ কোটি টাকা।

সবচেয়ে বেশি অনুদান সংগ্রহকারী ট্রাস্ট হিসেবে উঠে এসেছে প্রুডেন্ট ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মোট ২৬৬৮ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২১৮০.০৭ কোটি টাকাই গিয়েছে বিজেপির তহবিলে। বিভিন্ন নামী বহুজাতিক সংস্থার অনুদান এই ট্রাস্টের মাধ্যমেই এসেছে বলে জানা গিয়েছে।

এর আগের অর্থবর্ষেও অনুদান সংগ্রহে শীর্ষে ছিল বিজেপি। ২০২৩-২৪ সালে দলটি মোট ৩৯৬৭.১৪ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছিল, যার মধ্যে ১৬৮৫.৬২ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৪৩ শতাংশ এসেছিল নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে। এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনী বন্ড বন্ধ হলেও কার্যত অন্য পথে একই ব্যবস্থাই চালু রেখেছে কেন্দ্রের শাসক দল। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভয় দেখিয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে অনুদান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং বিরোধী দলগুলিকে আর্থিক দিক থেকে কোণঠাসা করা হচ্ছে। বিজেপির পক্ষ থেকে যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তবু সরকারি তথ্যেই অনুদানের বিপুল বৈষম্য স্পষ্ট হওয়ায় বিতর্ক যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য।

আরও পড়ুন – বিহার থেকে বিজেপি নেতাকে পাঠানো বাইক ঘিরে উত্তেজনা! প্রতিবাদে সরব তৃণমূল

_

 

_

 

_

 

_

 

_

spot_img

Related articles

AI-এর ধাক্কায় কি ৯ কোটি ছাঁটাই, নাকি ১৭ কোটি নিয়োগ? আশঙ্কার মধ্যেই আশার আলো দেখালেন নীলেকণি 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’-এর দাপটে বিশ্বজুড়ে কর্মহীন হওয়ার যে প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাকে ঘিরে আইটি মহলে বিতর্ক...

১৫০ জেলা বিচারক, সাত প্রাক্তন বিচারপতি: SIR-এ সোমবার থেকেই সহযোগিতা বিচার বিভাগের

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যের লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় আসা ভোটারদের নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। কলকাতা...

মাতৃভাষা দিবসে বাংলাকে ‘কাজের ভাষা’ করার ডাক বাংলা পক্ষর 

একুশে ফেব্রুয়ারি মানেই কেবল আবেগ বা শ্রদ্ধার্ঘ্য নয়, বরং ঘরের মাটিতে নিজের ভাষার অধিকার বুঝে নেওয়ার লড়াই। আন্তর্জাতিক...

প্রতীক উর তৃণমূলে যোগ দিতেই বহিষ্কার করল CPIM

কাজে এলো না বিমান বসুর ফোন, মহম্মদ সেলিমের সেন্টিমেন্টাল কার্ড। সিপিএম (CPIM) ছেড়ে তৃণমূলেই যোগ দিলেন যুব নেতা...