আর জি করের তরুণী-চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের তদন্তের দাবিতে জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশ গড়ে তুলেছিলেন জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট (JDF)। কিন্তু ন্যায়বিচারের দাবিতে গঠিত সংগঠনের তহবিল ঘিরে ওঠে দুর্নীতির অভিযোগ। কত টাকা উঠছে, কোথায় খরচ হচ্ছে- তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এবার সেই অভিযোগেই কার্যত সিলমোহর দিয়ে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের সভাপতি পদ ছাড়লেন আন্দোলনের অন্যতম নেতা অনিকেত মাহাত (Aniket Mahata)। নতুন বছরের প্রথমদিনই JDF-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। সূত্রের খবর, চিঠিতে অনিকেত স্পষ্ট লেখেন, যেভাবে ফ্রন্টের কাজ চলছে, তা অগণতান্ত্রিক এবং অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবির সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই।


JDF-এর ব্যানারে জুনিয়র ডাক্তার অনিকেত মাহাত, দেবাশিস হালদার, আসফাকুল্লা নাইয়ারা ‘অভয়া ফান্ড’ তৈরি করেন। কিছুদিন পরেই সেই তহবিলের নামে অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগেই কার্যত সিলমোহর দিয়ে অনিকেত পদ থেকে ইস্তাফা দেন। ইস্তফাপত্রে তিনি সাফ লেখেন,
“ট্রাস্ট এবং এক্সিকিউটিভ কমিটির সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক ঠিক না করে, আইনি পরামর্শ উপেক্ষা করে, যেভাবে এই কমিটি তৈরি করা হচ্ছে, সেটা আমি মনে করি সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক এবং এর সাথে অভয়ার ন্যায় বিচারের দাবিতে আন্দোলনও সংগতিপূর্ণ নয়। আমি এ বিষয়ে আমার আপত্তির কথা বারংবার জানিয়েছি, আইনি পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেছি, তাতে আপনার কর্ণপাত করেন নি।“
প্রথম থেকেই অভয়া ফান্ড-এর নামে টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ ওঠে। কোথা থেকে কত টাকা ওঠে তার শ্বেতপত্র প্রকাশেও দাবি জানানো হয়। হিসেবে প্রকাশ্যে আনার দাবিও ওঠে। অনিকেতের এই ইস্তফা সেই বিতর্ক ও অভিযোগেই আরও উস্কে দিল।

এই বিষয়ে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, সেটা ওদের সংগঠনের বিষয়। তবে আমরা তো প্রথম থেকেই এই বিষয় নিয়ে সরব ছিলাম। অভয়ার নামে ভাবাবেগকে উস্কে টাকা তোলা হচ্ছে বলে আগেই অভিযোগ তুলেছিলাম আমরা। কোনও হিসেব দেওয়া হয়নি। রহস্যময় বিষয় তো ছিলই।

–

–

–

–
–
–
