বাংলাকে ফের শিল্প মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত করাই লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিল্পপতিদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ শুরু করেছেন রাজ্যের নবনিযুক্ত শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায়।। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তাপসের দাবি, ‘‘ইতিমধ্যেই বাংলায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখিয়ে ৪২ জন শিল্পপতি যোগাযোগ করেছেন। প্রত্যেককেই সরকার পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।’’

ইতিমধ্যে দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলির প্রতিনিধিরা নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানির পুত্র করণ আদানি, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)-র চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এন সুব্রহ্মণ্যম এবং আমুলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয়েন মেহতা। শুধু নতুন শিল্প আনার চেষ্টা নয়, পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে যাওয়া টাটা গোষ্ঠীকেও ফের বাংলায় বিনিয়োগে উৎসাহিত করার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, শিল্পপতিদের কাছে সবচেয়ে বড় বার্তা হল— রাজ্যে এখন স্থিতিশীল প্রশাসন, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ।

শিল্পোন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তৈরির কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক ও প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, বর্তমানে নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ অশোক লাহিড়ীকে। সূত্রের খবর, আগামী কয়েক বছরের শিল্পনীতি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে একটি বিস্তারিত ‘ব্লু-প্রিন্ট’ তৈরির কাজ চলছে। এই আবহেই আগামী ২২ জুন বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ওই দিন দুপুর ১২টায় বাজেট পেশ করবেন। নবান্ন সূত্রে খবর, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, কৃষি, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসারের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে এই বাজেটে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক রোডম্যাপেরও ইঙ্গিত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন- ফ্লোর টেস্ট হোক, কে কোথায় আছে দেখা যাবে! বিধানসভায় পাল্টা চ্যালেঞ্জ ঋতব্রতর

_

_

_

_
_
_
_
