বাপের বাড়িতেই থাকতেন ৩ মাসের বিবাহবিচ্ছন্না কন্যা ভবানী। অভিযোগ, তাঁকে ঘর থেকে উচ্ছেদ না করতে পেরে মেয়ের মাথা ইট দিয়ে থেঁতলে খুন করেন বাবা! এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়া থানার শ্যামপুর গ্রামে। ১৩ দিন পর পাশের জঙ্গলের ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে ভবানীর পচাগলা দেহ।

বছর দুয়েক আগে ঈশান মালের মেয়ে ভবানী মালের বিয়ে হয়েছিল বিকনা গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে। কিন্তু দাম্পত্য সমস্যার জেরে শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সব সম্পর্ক তুলে বাপের বাড়ি চলে আসেন ভবানী। বাপের বাড়ির একটি ঘরে থেকে বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করতেন যুবতি। আর অন্য একটি ঘরে বাবা, সৎমা ও চার ভাইবোন। কিন্তু সেটা মেনে নিতে পারেননি তাঁর ‘সৎমা’ ও বাবা। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, প্রায়শই বাবা-মা ও মেয়ের মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকতো। কিন্তু তাঁকে কোনোভাবে বাড়ি থেকে তাড়াতে পারছিলেন তাঁরা।

প্রতিবেশীদের বয়ান অনুযায়ী, ১৪ ডিসেম্বরের পর থেকে ভবানীকে আর পাড়ায় দেখা যায়নি। ২৭ তারিখ বাবা ঈশান বাঁকুড়া সদর থানায় মেয়ের নামে নিখোঁজ ডায়েরিও করেন। ভবানীর খোঁজে ল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। তবে ৩১ ডিসেম্বর দিগশুলির জঙ্গলে কাঠ কুড়োতে গিয়ে এক পরিত্যক্ত কুয়োয় পচা গন্ধ পায় স্থানীয় কয়েক জন। মুখ বন্ধ এক বস্তা জলের মধ্যে ভাসতে দেখে সন্দেহ হয় তাঁদের। ওন্দা থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাঁরা ভবানীর পচাগলা শরীর উদ্ধার করে। আরও পড়ুন: পোশাক বিধি মেনেই নতুন বছরের শুরুতে মহাকাল মন্দিরে পর্যটকদের ঢল
পুলিশি জেরার মুখে ঈশান মাল স্বীকার করে নেন, বারবার মেয়েকে ঘর ছাড়তে বললেও মেয়ে রাজি হচ্ছিল না, তাই তাঁকে মেরে ফেলেন তিনি। প্রথমে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে বস্তা বন্দি করে জঙ্গলের কুয়োতে গিয়ে ফেলে দেন তিনি। পচে গিয়ে যাতে শরীর ভেসে না ওঠে তাই কিছু ইট-পাথরও ঢুকিয়ে দেন বস্তার মধ্যে। শেষে নিজে বাঁচতে থানায় গিয়ে নিখোঁজ ডাইরি করেন তিনি। শুক্রবারই বাঁকুড়া জেলা আদালতে হাজির করানো হয় ধৃতকে। বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, “নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

–

–

–

–

–

–


