রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর আগাম ও কড়া নজর রাখতে উদ্যোগী হল নির্বাচন কমিশন। সোমবার থেকে রাজ্যের প্রতিটি জেলা থেকে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সাপ্তাহিক রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। শনিবার এই মর্মে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে সমস্ত জেলা শাসকের কাছে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী সোমবার পাঁচই জানুয়ারি থেকে প্রতি সপ্তাহে জেলা শাসকেরা আইনশৃঙ্খলার বিস্তারিত রিপোর্ট মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে জমা দেবেন। সেখান থেকেই সেই রিপোর্ট পাঠানো হবে নির্বাচন কমিশনের কাছে।

এই মুহূর্তে রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তার পরেই ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনিক মহলের ধারণা, ওই সফরের পরেই ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে। ফলে ভোটের প্রস্তুতির জন্য সময় খুব বেশি হাতে নেই বলেই মনে করছে প্রশাসন।

এই প্রেক্ষিতেই কমিশন অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতির কাজ শুরু করে দিয়েছে। আগের নির্বাচনগুলিতেও ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর সাপ্তাহিক রিপোর্ট নেওয়া হয়েছে। তবে এবার সেই প্রক্রিয়া আরও আগেভাগেই শুরু হল। কমিশন সূত্রের দাবি, শুরু থেকেই রাজ্যের পরিস্থিতির উপর নজর রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। কোনও রকম ঝুঁকি না নিয়েই আগাম পদক্ষেপ করতে চাইছে কমিশন। আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত নজরদারি আরও জোরদার করতে ইতিমধ্যেই ২৫ নোডাল এজেন্সি নিয়োগ করা হয়েছে। আগামী সোমবার থেকেই তারা কাজ শুরু করবে বলে জানা গিয়েছে। প্রতিটি জেলায় জেলা শাসকের নেতৃত্বে আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা এই নোডাল এজেন্সিগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে। আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখাই এই কমিটির মূল দায়িত্ব।

কমিশন সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে। ভোটের দিন যত এগোবে, ততই প্রস্তুতির মাত্রা বাড়বে বলে ইঙ্গিত মিলছে। কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন- ভোটার তালিকা সংশোধনে রাজ্যে বিকেন্দ্রীকৃত শুনানিকেন্দ্র! অনুমোদন নির্বাচন কমিশনের

_

_

_

_

_
_


