ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার শুনানি পর্বে রাজ্যে বিকেন্দ্রীকৃত শুনানিকেন্দ্র চালুর অনুমোদন দিল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে পাঠানো এক নির্দেশিকায় কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যের ভৌগোলিক বিস্তৃতি, দুর্গম এলাকা, বনাঞ্চল, ছড়িয়ে থাকা বসতি এবং যাতায়াত সংক্রান্ত সমস্যার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের বারোটি জেলায় মোট একশো ষাটটি বিকেন্দ্রীকৃত শুনানিকেন্দ্রে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত শুনানি নেওয়া যাবে। এই তালিকায় রয়েছে দার্জিলিং, ঝাড়গ্রাম, কালিম্পং, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, আলিপুরদুয়ার, বাঁকুড়া, নদিয়া, হাওড়া, পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং জলপাইগুড়ি জেলা। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, দার্জিলিং জেলায় সর্বাধিক ঊনচল্লিশটি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় আটত্রিশটি বিকেন্দ্রীকৃত শুনানিকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন জেলার প্রস্তাবিত কেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে একশো ষাট।

নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সমস্ত বিকেন্দ্রীকৃত শুনানিকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শুনানি প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। কোনও রকম বহিরাগত প্রভাব বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রেখে শুনানি পরিচালনার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ভোটার নিবন্ধন সংক্রান্ত বিধি এবং নির্বাচন কমিশনের সময়ে সময়ে জারি করা নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার কথাও জানানো হয়েছে।

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, শুনানির দিনক্ষণ ও কেন্দ্রগুলির অবস্থান সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে আগাম জানাতে হবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনকে এই নির্দেশাবলির বাস্তবায়ন নিয়মিতভাবে নজরদারির মধ্যে রাখতে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকার ভোটারদের যাতে অযথা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে শুনানিতে হাজির হতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই বিকেন্দ্রীকরণের সিদ্ধান্ত। এই মুহূর্তে রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, বিকেন্দ্রীকৃত শুনানিকেন্দ্র চালু হলে এই প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগ ও অসঙ্গতি দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে নিষ্পত্তি করতেই নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন- ওড়িশায় বিধায়কের দাদাগিরি! তাণ্ডব বিডিও অফিসে

_

_

_

_

_
_


