Sunday, April 19, 2026

জাতীয় নাট্য উৎসবে বড় বরাদ্দ রাজ্যের, মঞ্চে ফিরছে বহুভাষার থিয়েটার 

Date:

Share post:

গোটা দেশে পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র রাজ্য, যেখানে থিয়েটারের জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করা হয়। এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, (Mamata Banerjee) এমনটাই জানালেন মিনার্ভা নাট্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)। রবিবার গিরিশ মঞ্চে অষ্টম জাতীয় নাট্য উৎসবের সূচনা করে তিনি জানান, এই উৎসবের জন্য রাজ্য সরকার ৮৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে।

ব্রাত্য বসুর বক্তব্য, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী সৃজনশীলতার ধারণাকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর হাত ধরেই রাজ্যের সাংস্কৃতিক জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে এ বার নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপিত হতে চলেছে জাতীয় নাট্য উৎসব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী ডাঃ শশী পাঁজা, অতীন ঘোষ, সংগঠনের সহ-সভাপতি অর্পিতা ঘোষ, দেবাশীষ মজুমদার সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

থিয়েটারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্রাত্য বসু। তাঁর কথায়, প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির জেরে মানুষের স্নায়ু ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে, যার প্রভাব পড়ছে থিয়েটারের উপর। এই সংকটের মধ্যেও নাটককে বিশেষ মর্যাদায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে অষ্টম জাতীয় নাট্য উৎসব। প্রথম দিনের অনুষ্ঠান হবে মধুসূদন মঞ্চে। পাশাপাশি গিরিশ মঞ্চেও নিয়মিত নাটক মঞ্চস্থ হবে। এ বছর মোট ১৭টি থিয়েটার দল অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে ছ’টি দল বিভিন্ন রাজ্যের, একটি মিনার্ভার নিজস্ব প্রযোজনা এবং বাকি দশটি দল আসছে ভিন রাজ্য থেকে।

সংগঠনের সহ-সভাপতি অর্পিতা ঘোষ জানান, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে বহু দল আবেদন করেছিল। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত বোর্ড সমস্ত আবেদন খতিয়ে দেখে দশটি দলকে বাছাই করেছে। বাংলার পাশাপাশি কন্নড়, তামিল, হিন্দি, ইংরেজি ও মালয়ালম ভাষাতেও নাটক মঞ্চস্থ হবে। সহ-সভাপতির কথায়, মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মিনার্ভাকে সাজিয়ে তোলার জন্য এবং নাটককে উচ্চ মানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংগঠনকে যে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, তা অভূতপূর্ব। এর ফলেই নাট্যজগত আজ নিজেদের আরও বিস্তৃতভাবে প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে। উঠতি প্রজন্মও সহজে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার মঞ্চ পাচ্ছে। অনুষ্ঠানে থিয়েটার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্মৃতিচারণায় ফিরে যান মন্ত্রী শশী পাঁজা। ছোটবেলার কথা মনে করে তিনি বলেন, সেই সময় সিনেমা থাকলেও তা ছিল ব্যয়বহুল। সাধারণ মানুষের বিনোদনের অন্যতম পথ ছিল থিয়েটার। সেই আবেগ ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই এই ধরনের উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম।

আরও পড়ুন – জয় পেয়ে শীর্ষে সুন্দরবন, ডায়মন্ড হারবার দলে নিল সাহিলকে

_

 

_

 

_

 

_

 

_

Related articles

বিজেপিকে ধরাশায়ী করে সরকার ছাড়ার হুঁশিয়ারি তিপ্রা মথা প্রধানের! চাপে গেরুয়া শিবির

ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (এডিসি) নির্বাচনে বিজেপিকে কার্যত ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়ে এবার সরাসরি দিল্লিকে কড়া বার্তা...

সংশোধনীর নামে ডিলিমিটেশন বিল পাশ করানোর ছক ভেস্তে যাওয়ায় গোঁসা মোদির

মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিলের আড়ালে ডিলিমিটেশন বিল পাশ করানোর ছক কষে ছিল কেন্দ্রীয় সরকার। শুকক্রবার লোকসভায় I.N.D.I.A. ঐক্যবদ্ধ...

ছাত্রীদের ‘শর্টস’ পোশাক ঘিরেই শিক্ষকদের ‘বিভ্রান্তি’! উপাচার্যের মন্তব্যে অগ্নিগর্ভ তামিলনাড়ু ন্যাশনাল ল’ ইউনিভার্সিটি

ছাত্রীরা ক্লাসে ‘শর্টস’ পরে এলে অধ্যাপকদের মনোযোগ নষ্ট হয় এবং তাঁদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, তামিলনাড়ু ন্যাশনাল ল’...

হাওড়া থেকে ভাঙড়: শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা জানালেন মমতা

বিগত কয়েক দশকের খরা কাটিয়ে রাজ্যে শিল্পপতিদের দেখা মিলেছে বাংলায়। কেন্দ্রের সরকার বারবার বাংলাকে বঞ্চনার মুখে ফেললেও রাজ্য...