গঙ্গাসাগর সেতু শিলান্যাসের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানিয়ে দেন পুত্র সন্তানের জন্ম দেওয়ায় তিনি সোনালিকে ফুল ও মিষ্টি পাঠাবেন। এদিন মঞ্চ থেকে কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্বকে ‘দুর্যোধন–দুঃশাসনের প্রবণতা’–র সঙ্গে তুলনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভোটের মুখে বাংলায় অশান্তি পাকানোর ছক হচ্ছে। লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা হচ্ছে—কোথাও টুক করে গণ্ডগোল করা যায় কি না। একটু কিছু হলেই চিৎকার শুরু করবে!” রবিবার বিকেল ৫টা নাগাদ সোনালিকে রুটিন চেকআপের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তবে সেখান থেকেই তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যালে রেফার করা হয়। রাত ৯টা নাগাদ ভর্তি হন তিনি কিন্তু ডাক্তাররা জানান সিজ়ার করতে হবে। সোমবার ১১টা নাগাদ সোনালি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। মা, ছেলে দু’জনেই সুস্থ আছেন। সদ্যোজাতর নাম যদিও এখনও ঠিক করেনি পরিবার। এর মাঝেই মঙ্গলবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোনালিকে দেখতে যাবেন।

পুত্রসন্তানের জন্মের খবর পাওয়া মাত্রই সোনালি ও তাঁর সদ্যোজাতকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার এক্স হ্যান্ডলে অভিষেক লেখেন, ‘’তিনি যে অবিচারের শিকার হয়েছিলেন, সেই অবস্থায় এই আনন্দের মুহূর্ত বেশি গভীর। আগামিকাল (৬ জানুয়ারি) আমি বীরভূম সফরে যাচ্ছি। সোনালি ও তাঁর নবজাতককে শুভেচ্ছা জানাতে আমি ব্যক্তিগত ভাবে হাসপাতালে যাব।’’ আরও পড়ুন: প্রথমবার KMDA-র তত্ত্বাবধানে শহরাঞ্চলে পথশ্রী–রাস্তাশ্রী প্রকল্পে ৫ হাজারের বেশি রাস্তা

সোনালি খাতুন দিল্লিতে পরিচারিকার কাজ করতেন। বাংলাতেই কথা বলতেন বলে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে তাঁকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। অন্তঃসত্ত্বা সোনালিকে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করেছিল BSF। এমতাবস্থায় ভিন দেশে ‘অপরাধী’র মতো জেলবন্দি হয়ে থাকতে হয়েছিল সোনালিকে। হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও কেন্দ্র সোনালিকে দেশে ফেরাতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ ওঠে এবং এই নিয়ে সরব হয়েছিলেন খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ৬ মাসের লড়াই শেষে ৫ ডিসেম্বর প্রেগন্যান্সির অ্যাডভান্স স্টেজে ভারতে ফেরেন সোনালি। দেশে ফিরে মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেককে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন সোনালি।
–

–

–

–

–

–

–


