কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার কতখানি অমানবিক, বাংলার মানুষ টের পেয়েছিল ২০২১ সালে। শুধুমাত্র বাংলায় ক্ষমতা দখলের জন্য প্রবল করোনার (COVID 19) ঢেউকে উপেক্ষা করে আট দফায় বিধানসভা নির্বাচন করেছিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ভোটের ফলাফলে তার জবাব দিয়েছিল বাংলার মানুষ। এবার সেই নির্বাচন কমিশন নিজেরাই বাংলায় ভোটের দফা (election phase) কমানোর পক্ষে সওয়াল করছে। দফা নিয়ে কোনও রকম দ্বিমত পোষণ না করেও এবার বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রশ্ন, তাহলে কেন ২০২১ সালে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে আট দফায় ভোট হল?

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে আট দফার পরিবর্তে ছয় দফায় ভোট করানোর প্রস্তাব উঠে এসেছে সোমবার। ভোট প্রস্তুতি নিয়ে দিল্লিতে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের তরফে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দফা কমালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Force) ব্যবহার আরও সুচারুভাবে সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি দফায় সংবেদনশীল এলাকায় পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েন রেখে কড়া নজরদারি চালানো যাবে বলে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা ও অতীতের সংঘর্ষপ্রবণ এলাকাগুলিতে এই কৌশল কার্যকর হবে বলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal, CEO) মনে করেন।

কমিশনের তরফে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় রাজ্যে সব বুথে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা গিয়েছিল কি না, জানতে চাওয়া হয়েছে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় ওয়েব কাস্টিং সংক্রান্ত গাফিলতির অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতে কেন সব বুথে ওয়েব কাস্টিং করা যায়নি এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের তরফে কোনও গাফিলতি ছিল কি না—এই প্রশ্নগুলির স্পষ্ট জবাব জানতে চেয়েছেন কমিশনের আধিকারিকরা।
তবে ওয়েব কাস্টিং বা কেন্দ্রীয় বাহিনী। কোনওভাবেই বাংলার মানুষের রায়কে প্রভাবিত করা যাবে না বলে দাবি তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী কী করবে? রাষ্ট্রসঙ্ঘ থেকে বাহিনী আনলেও চতুর্থবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গঠিত হবে। প্রত্যেকবার ভোটে হেরে বলত কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করবে। তারপরেও ভোটার তালিকা কারচুপি করতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে।

আরও পড়ুন : লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি সমস্যা সমাধানে হিমসিম কমিশন: সময় বেঁধে কাজ শেষের হুঁশিয়ারি!

সেই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতদিন পরে কেন কমিশের হঠাৎ মনে হল দফা কমাতে। কুণাল প্রশ্ন তোলেন, ২০২১ সালে চারপাশে করোনা (COVID 19)। জোর করে রাজ্যে আট দফায় (election phase) ভোট দিল। এখন কম করার চেষ্টা! কলকাতা তথা দক্ষিণ বঙ্গের মানুষের উপর করোনা চাপিয়ে দিয়েছিল কেন্দ্রের সরকার। আমাদের একটাই প্রশ্ন, একুশ সালে এটা হয়নি কেন?

–

–

–

–


