দুই বছরের কাজ দুই মাসে শেষ করার মতো অসম্ভব প্রক্রিয়া হাতে নিয়ে হিমসিম নির্বাচন কমিশন। যেখানে দেশের ১২ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু করার পরে ক্রমশ ধাপে ধাপে সময় বাড়ানো হয়েছে। ব্যতিক্রম একমাত্র বাংলা। নির্বাচনের আগে এসআইআর-এর কাজ শেষ করার তাড়াহুড়োয় ভুলে ভরা খসড়া তালিকা (draft voter list) প্রকাশ করেছে কমিশন। এবার সেই ভুলে খেসারত দিতে লিজকাল ডিসক্রিপেন্সি (logical discrepancy) বলে হয়রান করা হচ্ছে বাংলার মানুষকে। বারবার তা নিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাতেও এতটুকু শিক্ষা হয়নি কমিশনের। এবার সেই লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির সমাধানের প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য নতুন করে জারি হল নির্দেশিকা।

কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যেভাবে টার্গেট বেঁধে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে, সেই দায় এবার জেলার নির্বাচনী আধিকারিকদের উপর চাপিয়ে দায় উদ্ধারে ব্যস্ত রাজ্যের সিইও দফতর। ভোটার তালিকার তথাকথিত তথ্যগত অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি সংক্রান্ত সমস্ত নোটিস (logical discrepancy notice) অবিলম্বে ডাউনলোড করে এসআইআর-এর প্রথম দফায় লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায় প্রায় এক কোটি ছত্রিশ লক্ষ ভোটারের নাম উঠে এসেছিল। তবে পরবর্তী যাচাই ও সংশোধনের পরে সেই সংখ্যা কমেছে। সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় থাকা ভোটারের সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় পঁচানব্বই লক্ষে। আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির (logical discrepancy) তালিকার ভোটারদের হাতে পৌঁছে দিতে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। এই কাজে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : কমিশনের অ্যাপ ফেল! ভোটার তালিকায় কত জায়গায় নাম, উত্তর জানতে এবার ফর্ম বিলি
নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সমস্ত জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে নোট পাঠিয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার থেকে প্রতিদিন বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক কতগুলি লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নোটিস সার্ভ (notice serve) করা হল, তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

–

–

–

–

–

–


