বিজেপির চক্রান্ত এবং নির্বাচন কমিশনের নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্বের বলি হয়েছে বাংলার একাধিক মানুষ। বুধবার বালুরঘাটে গিয়ে SIR-এর অমানবিক চাপের জেরে প্রাণ হারানো ওসমান মোল্লার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুনলেন তাঁদের দুর্দশার কথা। এদিন অভিষেকের সঙ্গে ছিলেন ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র এবং কুমারগঞ্জের বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডল।

দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে পৌঁছে ওসমান মোল্লার শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক। যিনি এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে সৃষ্ট অসহনীয় উদ্বেগ সহ্য করতে না পেরে মর্মান্তিকভাবে আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের সদস্যরা অভিষেককে জানিয়েছেন, ভোটার আইডি এবং ভোটার তালিকার মধ্যে নামের সামান্য অমিলের কারণে এসআইআর নোটিশ আসার পর থেকেই ওসমান মোল্লা ভয় পেয়েছিলেন। বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছিলেন। ভোটাধিকার হারানোর চিন্তায় জর্জরিত ছিলেন।” কুমারগঞ্জ ব্লকের রামকৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আগাছা এলাকার বাসিন্দা ওসমান মোল্লা (৬৫) গত নভেম্বর মাসে আত্মঘাতী হয়েছিলেন। পরিবার ও আত্মীয়স্বজন দাবি করেন এসআইআর আতঙ্কে ওসমান আত্মঘাতী হন।

অভিষেক জানিয়েছেন, “আজ শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আমি আশ্বাস দিলাম – ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে, বাংলার ভোটাধিকার রক্ষার্থে এবং দিল্লির জমিদারি ব্যবস্থায় প্রাণ হারানো প্রতিটি মানুষের মর্যাদা রক্ষার জন্য বাংলা-বিরোধী বিজেপির বিরুদ্ধে আমরা অবিরাম লড়াই চালিয়ে যাব। বাংলা-বিরোধী বিজেপির প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির যোগ্য জবাব গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেওয়া হবে, তার জন্য প্রস্তুত বাংলা।”
এদিন ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়েও ফের বিজেপিকে আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “বাংলায় জিততে না-পেরে এসআইআরের নামে মানুষকে হেনস্থা করছে।” বিজেপির উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, বাংলায় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের কত জন বাংলাদেশি, আর কত জন রোহিঙ্গা? এসআইআরের জন্য দু’মাসে ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান অভিষেক। তাঁর প্রশ্ন, “এই মৃত্যুর দায় কার? বাংলার উপর কিসের এত রাগ বা অবজ্ঞা?”

আরও পড়ুন – দুই দিনাজপুর মিলে ১৫: ইটাহারের রোড শো-এ জনসমুদ্রে ভেসে টার্গেট বেঁধে দিলেন অভিষেক

_

_

_

_

_
_


