বিজেপিশাসিত ওড়িশায় ফের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে পুশব্যাক করা হল ১৪ জন বাঙালিকে। বাংলায় কথা বলার অপরাধে গোটা পরিবারকে পাঠিয়ে দেওয়া হল বাংলাদেশে। সোনালি-কাণ্ডে শিক্ষা হয়নি, বাংলাবিরোধী বিজেপি ফের একবার নির্লজ্জ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

ডবল ইঞ্জিন ওড়িশায় (Odisha) এবার হেনস্থা, অত্যাচার বা প্রাণনাশ নয়! একেবারে ‘বাংলাদেশি তকমা’ সেঁটে পাঠিয়ে দেওয়া হল বাংলাদেশে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার মৌসুনি গ্রাম পঞ্চায়েতের আদি বাসিন্দা শেখ জব্বরের পরিবার জীবিকার সন্ধানে ওড়িশায় চলে গিয়েছিল। ৬০-৭০ বছর ধরে তাঁরা ওড়িশায় থাকতেন। গত ২৫ ডিসেম্বর জব্বরের পরিবারের ১৪ জন সদস্যকে নদিয়ার গেদে সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ পাঠিয়ে দেয় বাংলাদেশে। বীরভূমের সোনালি বিবি, অসমের নলপুরের সাকিনা বিবির ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে এই মর্মে কড়া নির্দেশ দেওয়ার পরও জ্ঞান শিক্ষা হল না বিজেপির। আরো পড়ুন: এক দফাতেই রাজ্যে বিধানসভা ভোট? কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে আশ্বস্ত নির্বাচন কমিশন

শেখ জব্বররা থাকতেন ওড়িশার জগৎসিংপুর জেলার এরসামা থানার অম্বিকা গ্রামে। গত নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি ওই পরিবারকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে পাকড়াও করে পুলিশ। ওড়িশা প্রশাসনের দেওয়া জন্ম শংসাপত্র থেকে শুরু করে আধার, ভোটার, প্যানকার্ড-সহ যাবতীয় নথি এবং ৭০ বছর আগের নামখানা ব্লকের জমির দলিল দেখানো সত্ত্বেও শেষ জব্বরের পরিবারের নিস্তার মেলেনি। দু’দফায় দেড়মাস জেলবন্দি থাকতে হয় তাঁদের। শেষে আঁধার ও ভোটার কার্ড কেড়ে নিয়ে দুগ্ধপোষ্য শিশু, মহিলা ও নবতিপর বৃদ্ধা-সহ গোটা পরিবারকে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করে দেওয়া হয়। ২৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড তাদের পাকড়াও করে। ওই ১৪ জন ভারতীয় নিশ্চিত হওয়ার পর ২৮ ডিসেম্বর কুষ্ঠিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত পার করিয়ে তাঁদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানায় বিজিবি। তবে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ওই পরিবারের কোনও সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি আত্মীয়-স্বজনরা।
ওড়িশায় এই লাগাতার বাঙালি হেনস্থা এবং বাংলাদেশি তকমা দিয়ে পুশব্যাক করার বিষয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার চিঠি লেখেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে। ওড়িশা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভক্তচরণ দাসকেও জানানো হয় বিষয়টি। কিন্তু কেন্দ্র বা ওড়িশা সরকারের কোনও হেলদোল নেই। দিল্লিতে বাস করা পরিযায়ী শ্রমিক সোনালি বিবিকে বাংলাদেশ থেকে ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্তঃসত্ত্বা সোনালিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল আদি বাড়ি বীরভূমে। কিন্তু এখনো বাংলাদেশে আটকে রয়েছেন সোনালির স্বামীসহ চারজন সদস্য। তারপর ফের ১৪ জন বাঙালিকে পুশব্যাক করা হল বাংলাদেশে। রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম এই ঘটনায় সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, এখন পরিবারটি কোথায় জানা যাচ্ছে না। বিজিবি বলছে ফেরত পাঠিয়েছে। এদিকে বিএসএফ নিশ্চুপ। বাঙালি বিদ্বেষের গভীর চক্রান্ত চলছে দেশজুড়ে। বাংলা বিরোধী বিজেপির হাতে বিপন্ন বাঙালি।

–

–

–

–

–

–


