Saturday, February 21, 2026

নতুন করে কাজের চাপে আত্মঘাতী বিএলও! আতঙ্কে মৃত্যু দুই ভোটারেরও

Date:

Share post:

নিজেদের কাজের টার্গেট পূরণের জন্য ক্রমশ চাপ বাড়ানো হচ্ছে রাজ্যে সরকারি কর্মী বিএলওদের উপর। তার জেরে ক্রমশ মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে বিএলও-দের (BLO)। কেউ অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন, কেউ আত্মঘাতী হচ্ছেন। ফের একবার সেই রকম মর্মান্তিক পরিণতি এক মহিলা বিএলও-র। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের শুনানি (SIR hearing) সংক্রান্ত হয়রানিতে সাধারণ মানুষদের মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। এবার মৃত্যু হল আরও দুই ভোটারের (voter)।

বানেশ্বরের পরে কোচবিহারের (Coochbihar) আরও এক বিএলও-র মৃত্যু হল। শুক্রবার সকালে কোচবিহারের পেস্টারঝার গ্রামের কাছে চলন্ত ট্রেনে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত মহিলার নাম মাধবী রায়। তিনি কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা এলাকার সুটকাবাড়ির একটি বুথের বিএলও হিসাবে কাজ করছিলেন ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক অভিযোগ করেন, কাজের চাপেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তিনি কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের সুটকবাড়ি অঞ্চলে ৪/১৫২ বুথের দায়িত্বে ছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, নতুন করে আরও চারশো জন ভোটারের হিয়ারিং (SIR hearing) বিষয়ক কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। নতুন করে এটা যে কত বড় চাপ  সেটা কাজের সঙ্গে যুক্তরা জানেন। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেন তাঁরা। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গুড়িয়াহাটি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মৃতের বাড়ির এলাকায় শোকের ছায়া।

অন্যদিকে শুনানির পরেও ভোটার তালিকায় নাম উঠছিল না। সেই দুশ্তিন্তায় উত্তর চব্বিশ পরগণার হাসনাবাদের (Hasnabad) ভেবিয়া এলাকায় মৃত্যু হল বছর ৩৮-এর যুবক ফিরোজ মোল্লার। ২০০২-এর ভোটার লিস্টের হার্ড কপিতে বাবা-মায়ের নাম আছে, কিন্তু অনলাইনে নেই। তা থেকেই দুশ্চিন্তায় মৃত্যু বলে অভিযোগ। কমিশন হিয়ারিংয়ে (SIR hearing) ডাকে ৩ জানুয়ারি। বাবা মোবাক মোল্লা ও মা জরিনা মোল্লার সঙ্গে নামের মিল হচ্ছিল না। তাই তাঁর নাম বাদ পড়ছিল। ফলে প্রচণ্ড দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। শুক্রবার তার জেরেই অসুস্থ হয়ে মারা যান, বলে অভিযোগ। স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রধান অলিউল মণ্ডল খবর পাওয়ামাত্রই পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন : হয়রানি পর অসুস্থ-প্রবাসীদের শুনানিতে ছাড় কমিশনের: তৃণমূলের লড়াইয়ের সুফল

অন্যদিকে এসআইআর শুনানিতে এসে মারা গেলেন বালি-জগাছা (Bally) ব্লকের বৃদ্ধ মদন ঘোষ। শুক্রবার দুপুরে বালি-জগাছা ব্লক অফিসের এসআইআর শুনানি কেন্দ্রেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, এদিন বেলা ১১টা নাগাদ শুনানিতে এসেছিলেন। কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেরক্স করে নিয়ে এসে লাইনে দাঁড়ানোর কয়েক মুহূর্ত পরেই মাথা ঘুরে পড়ে যান। তাঁকে কোনা গ্রামীণ হাসপাতাল, সেখান থেকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ছেলে দীপঙ্কর বলেন, এসআইআরের কারণে বাবা বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন। প্রায়ই বলতেন তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে পারে। এই ভয় এবং আতঙ্ক থেকে অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন। স্থানীয় বিধায়ক কল্যাণ ঘোষের অভিযোগ, ২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়। এই মৃত্যুর জন্য পুরোপুরি দায়ী নির্বাচন কমিশন।

spot_img

Related articles

সুপ্রিম নির্দেশে আজ রাজ্য ও কমিশনের সঙ্গে বৈঠক হাইকোর্টের

শীর্ষ আদালতে এসআইআর (SIR) মামলায় কলকাতা হাইকোর্টকে বড় নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) । লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে...

রাজবংশী ও কুড়মালি ভাষার জন্য রাজ্যের লড়াই: অষ্টম তফসিলের দাবি কেন্দ্রকে

বারবার নিজেদের আদিবাসী ও মূলবাসী বন্ধু হিসাবে প্রমাণ করার চেষ্টা করা নরেন্দ্র মোদি সরকার যে আদতে মিথ্যাচার করে...

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে প্রশ্ন: বন্দেমাতরম-নির্দেশিকা নিয়ে হাই কোর্টে মামলা

একসময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশ্ন তুলে বন্দেমাতরমের একাধিক স্তবক নিয়ে দ্বিমত হয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বরা। সেই বন্দেমাতরম-এর (Vande Mataram)...

দুবছর পরে নাগরিকত্ব আইনে কার্যকরে কমিটি: নির্দেশিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের

বাংলায় নির্বাচনের আগে বার বার নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। মতুয়া সম্প্রদায় ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে...