Wednesday, May 13, 2026

হয়রানি পর অসুস্থ-প্রবাসীদের শুনানিতে ছাড় কমিশনের: তৃণমূলের লড়াইয়ের সুফল

Date:

Share post:

এসআইআর চাপিয়ে নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার করে বাংলার বৈধ ভোটারদের নাম বিপুল পরিমাণে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করেছিল বিজেপি। আদতে সেই চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ায় নতুন হাতিয়ার এসআইআর শুনানি। আর সেই শুনানির (SIR hearing) নামে যেভাবে বাংলার মানুষকে হেনস্থা চালিয়ে যাচ্ছিল কমিশন বারবার তার প্রতিবাদে কলকাতা থেকে দিল্লিতে সরব হয়েছে বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। অবশেষে সেই প্রতিবাদের জেরে এসআইআর শুনানিতে সশরীরে হাজিরার (personally appearing) নিয়মে বদল আনতে বাধ্য হল কমিশন (Election Commission)। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত আদতে বাংলার মানুষের জয়, দাবি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের।

শুক্রবারই নির্বাচন কমিশনের সিইও দফতরের (CEO Office) তরফে নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়, পরিযায়ী শ্রমিক থেকে পড়াশোনা ও চিকিৎসার জন্য যাঁরা বাইরে রয়েছেন তাদের শুনানির জন্য সশরীরে হাজিরা দিতে হবে না। শুনানিতে সশরীরে হাজিরার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় সরকারি কর্মী, এনআরআই বা রাজ্যের বাইরে থাকা বেসরকারি কর্মী, সেনাবাহিনীতে কর্মরতদেরও। দেরিতে হলেও কমিশনের বোধোদয়ে স্বস্তিতে বাংলার সাধারণ মানুষ।

বাস্তবে যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন, তা যে কতখানি অপরিকল্পিত, তা প্রমাণ করেছে এই ঘটনা আবারও। সাধারণ মানুষের হয়রানি, মৃত্যু এসআইআর-এর শুনানি পর্বেও অব্যাহত। অথচ সব দেখেও চোখ বুঁজে ছিল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলের তরফে সিইও দফতরে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করার জন্য দরবার করা হয়েছিল একাধিকবার। অবশেষে সেই দাবিকে মান্যতা দিল কমিশন।

আরও পড়ুন : বিদেশে থাকা ভোটারদের জন্য এসআইআরের শুনানিতে ছাড় ঘোষণা কমিশনের 

সাধারণ মানুষের দাবি এবং সেই দাবিতে তৃণমূলের আন্দোলন। তার জেরেই কমিশনের এই পদক্ষেপ বাংলার মানুষের জয়, দাবি রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার (Shashi Panja)। তিনি জানান যে, নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর ফর্ম ফিলাপের জন্য আত্মীয়কে অনুমতি দিচ্ছে কমিশন। সেই কমিশনই শুনানির জন্য আনম্যাপড বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির জন্য নোটিশ পাঠানো ব্যক্তিদের সশরীরে হাজিরা নির্দেশ দিচ্ছে। এর ফলে ব্যাপকভাবে হেনস্থার শিকার হচ্ছিলেন বহু মানুষ। তাঁদের দাবি নিয়েই বারবার তৃণমূল কংগ্রেস সিইও দফতরে দরবার করে। আবেদন জানায়, এঁদের শুনানির জন্য তাদের আত্মীয়দের উপস্থিত হওয়ার আবেদন গৃহিত হোক। অবশেষে সেই দাবিতে মান্যতা কমিশনের (Election Commission)। বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় থাকবেই। এই জয় তৃণমূলের। এই জয় বাংলার মানুষের।

Related articles

সব শক্তি অন্তরেই রয়েছে: ‘ব্রেভ’ লিখে সাহসী হওয়ার বার্তা মমতার

বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদলের পরে ভোট পরবর্তী হিংসা রাজ্য তথা সমাজের একটি শ্রেণিকে বিপদের মুখে ফেলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের...

বিদেশি খেলানো থেকে স্পনসর আনা, ঐতিহ্যের মোহনবাগানে আধুনিকতার দিশারী টুটু

মোহনবাগান এবং টুটু বোস (Tutu Bose), তিন দশকের বেশি সময়ে নাম দুটো সমার্থক হয়ে গিয়েছে। ঐতিহ্যের মোহনবাগান ক্লাবে...

ছাব্বিশের নির্বাচনে জয়ীদের আজ বিধানসভায় শপথগ্রহণ

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে সরকার গড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। গত পঁচিশে...

জীবন যুদ্ধে হার মানলেন, টুটুহীন মোহনবাগান

লড়াই শেষ, জীবনযুদ্ধে হার মানলেন স্বপন সাধন বোস। ভারতীয় ফুটবলে যিনি পরিচিত টুটু(Tutu Bose) নামে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিঃশ্বাস...