Thursday, April 2, 2026

৩১ মার্চের মধ্যে খাদানের কাজ শুরু, ২৫ হাজার কর্মসংস্থান: আশ্বাস অভিষেকের, ডিজি মাইনিং-এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

Date:

Share post:

বাঁকুড়া জেলার পাথর খাদান এলাকায় দাঁড়িয়ে বিপুল কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শনিবার বাঁকুড়ার (Bankua) শালতোড়ায় জনসভা করেন অভিষেক। আর সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পাথর খাদানের কাজ শুরু হয়ে যাবে। সেগুলি চালু হলে কমপক্ষে ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে আশ্বাস দেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। একই সঙ্গে জানান, এদিন সকালেও এই বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এই পাশাপাশি খাদানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক ডিজি মাইনিং-কে ঘুষ দিতে হয় বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)।

অভিষেক বলেন, “শালতোড়ায় কেন এসেছি? নবজোয়ারের কর্মসূচির আগে আপনাদের কথা দিয়ে গিয়েছিলাম। কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরে কিছু জায়গায় ক্রাশারের কাজ আইনি প্রক্রিয়া মেনে চালু হয়েছিল। আবার অনেক বাধ্যবাধকতা, কোর্টের নির্দেশের জন্য সেই কাজ পুরোদমে চালু হয়নি। এখনও পর্যন্ত প্রায় চার-সাড়ে চার হাজার কর্মী এই কাজে যুক্ত রয়েছেন। পুরোদমে চালু হয়ে গেলে ২৫ হাজার লোক কাজ পাবে। সরকারি যে ১৩৩ হেক্টর জমি রয়েছে, সেখানে প্রায় ১৮টি মাইন রয়েছে। এই ১৮টি মাইন শুরু হলে কমপক্ষে ২৫ হাজার লোক কর্মসংস্থানের বাড়তি সুযোগ পাবে। আমি গত দু’মাস ধরে এর উপর কাজ করেছি। আজ সকালেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ৩১ মার্চের আগে সব কাজ চালু করে ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। কথা দিয়ে কথা রাখার নাম তৃণমূল।”

এরপর এই বিস্ফোরক অভিযোগ করে অভিষেক বলেন, “পাঁচটা খাদান চালু রয়েছে। প্রায় ১২০টি ক্রাশারের কাজ চলছে। ২৫০টির উপরে ক্রাশার রয়েছে। কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। একটি খাদান করতে গেলে অন্তত এক হেক্টর জমির প্রয়োজন হয়। একাধিক সরকারি অনুমতির দরকার হয়। ডাইরেক্টর জেনারেল অফ মাইনিং-এর এনওসি পেতে গেলে মাসের পর মাস লেগে যায়। আইনি প্রক্রিয়া মেনে যদি খাদান চালুও করতে হয়, ৩০-৩২ লক্ষ জমা দিতে হয়। তার পরে অনৈতিক ভাবে ডিজি মাইন-কে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হবে। শালতোড়ার বিধায়ক বিজেপির। ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাংসদ ছিল বিজেপির। আমি জিজ্ঞেস করে বিধায়ক-সাংসদদের লজ্জা লাগে না! কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থাকে ঘুষ দিতে মানুষকে নিজেদের অধিকারের স্বার্থে লড়তে হয়। তখন এদের বড় বড় ভাষণ কোথায় থাকে!”

অভিষেকের প্রতিশ্রুতিতে আশার আলো দেখছেন বাঁকুড়ার খনি অঞ্চলের মানুষ।

 

Related articles

কমিশনের নির্দেশে রদবদল! সরলেন মালদহের কমিশনার, দায়িত্বে গুলাম আলি আনসারি

বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজ্যে একাধিক প্রশাসনিক পদে রদবদল শুরু করেছিল নির্বাচন কমিশন। গত কয়েক সপ্তাহে শীর্ষ...

মালদহ-কাণ্ডে নবান্নের তৎপরতায় সন্তুষ্ট কমিশন, আইনশৃঙ্খলায় কড়া নজর রাজ্যের

মালদহের কালিয়াচকের সাম্প্রতিক অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক সারলেন মুখ্য নির্বাচন...

অন্নদাত্রীর শেষযাত্রায় মৃতাকে জড়িয়ে রইল বানর, চোখ ভিজলো নেটপাড়ার

ভালবাসা কখনও অসহায় কখনও আবার বড়ই শক্তিশালী। আসলে শব্দটার অনুভব এতটাই আন্তরিক, যে তা খুব সহজে হৃদয় ছুঁয়ে...

IPL: ভোট মরশুমেও হাউসফুল ইডেন, নিরাপত্তার বাড়তি কঠোরতা

  ভোটের ভরা বাজারেও হাউসফুল ইডেন । চলতি মরশুমে প্রথমবার ঘরের মাঠে খেলতে নামলো কেকেআর। প্রতিপক্ষ সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। বাংলা...