Saturday, February 21, 2026

৩১ মার্চের মধ্যে খাদানের কাজ শুরু, ২৫ হাজার কর্মসংস্থান: আশ্বাস অভিষেকের, ডিজি মাইনিং-এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

Date:

Share post:

বাঁকুড়া জেলার পাথর খাদান এলাকায় দাঁড়িয়ে বিপুল কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শনিবার বাঁকুড়ার (Bankua) শালতোড়ায় জনসভা করেন অভিষেক। আর সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পাথর খাদানের কাজ শুরু হয়ে যাবে। সেগুলি চালু হলে কমপক্ষে ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে আশ্বাস দেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। একই সঙ্গে জানান, এদিন সকালেও এই বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এই পাশাপাশি খাদানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক ডিজি মাইনিং-কে ঘুষ দিতে হয় বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)।

অভিষেক বলেন, “শালতোড়ায় কেন এসেছি? নবজোয়ারের কর্মসূচির আগে আপনাদের কথা দিয়ে গিয়েছিলাম। কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরে কিছু জায়গায় ক্রাশারের কাজ আইনি প্রক্রিয়া মেনে চালু হয়েছিল। আবার অনেক বাধ্যবাধকতা, কোর্টের নির্দেশের জন্য সেই কাজ পুরোদমে চালু হয়নি। এখনও পর্যন্ত প্রায় চার-সাড়ে চার হাজার কর্মী এই কাজে যুক্ত রয়েছেন। পুরোদমে চালু হয়ে গেলে ২৫ হাজার লোক কাজ পাবে। সরকারি যে ১৩৩ হেক্টর জমি রয়েছে, সেখানে প্রায় ১৮টি মাইন রয়েছে। এই ১৮টি মাইন শুরু হলে কমপক্ষে ২৫ হাজার লোক কর্মসংস্থানের বাড়তি সুযোগ পাবে। আমি গত দু’মাস ধরে এর উপর কাজ করেছি। আজ সকালেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ৩১ মার্চের আগে সব কাজ চালু করে ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। কথা দিয়ে কথা রাখার নাম তৃণমূল।”

এরপর এই বিস্ফোরক অভিযোগ করে অভিষেক বলেন, “পাঁচটা খাদান চালু রয়েছে। প্রায় ১২০টি ক্রাশারের কাজ চলছে। ২৫০টির উপরে ক্রাশার রয়েছে। কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। একটি খাদান করতে গেলে অন্তত এক হেক্টর জমির প্রয়োজন হয়। একাধিক সরকারি অনুমতির দরকার হয়। ডাইরেক্টর জেনারেল অফ মাইনিং-এর এনওসি পেতে গেলে মাসের পর মাস লেগে যায়। আইনি প্রক্রিয়া মেনে যদি খাদান চালুও করতে হয়, ৩০-৩২ লক্ষ জমা দিতে হয়। তার পরে অনৈতিক ভাবে ডিজি মাইন-কে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হবে। শালতোড়ার বিধায়ক বিজেপির। ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাংসদ ছিল বিজেপির। আমি জিজ্ঞেস করে বিধায়ক-সাংসদদের লজ্জা লাগে না! কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থাকে ঘুষ দিতে মানুষকে নিজেদের অধিকারের স্বার্থে লড়তে হয়। তখন এদের বড় বড় ভাষণ কোথায় থাকে!”

অভিষেকের প্রতিশ্রুতিতে আশার আলো দেখছেন বাঁকুড়ার খনি অঞ্চলের মানুষ।

 

spot_img

Related articles

সুপার আটের আগে ফের উদ্বেগ, চোট পেলেন টিম ইন্ডিয়ার তারকা পেসার

রবিবার টি২০ বিশ্বকাপের(T20 World Cup 2026)সুপার আটের (Super 8 )প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে খেলতে নামছে ভারত(India)। তার...

ফাগুনের বঙ্গে ৩৩ ডিগ্রি পারদ! বৃষ্টির পূর্বাভাসেও নেই উষ্ণতা কমার ইঙ্গিত

ক্যালেন্ডারে সময়টা বসন্তকাল কিন্তু আবহাওয়ার মতিগতি দেখে বোঝা দায়। ফাগুনেই বাংলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি পেরিয়ে গেল। দুই...

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজ্যে আসছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, মার্চের শুরুতেই মোতায়েন আধাসেনা! 

বাংলায় ভোটের (West Bengal assembly election) বাদ্যি বেজে ওঠার আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ( Central force) পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে...

দিল্লিতে বড় হামলার ছক লস্করের ! রাজধানীতে জারি হাইঅ্যালার্ট

জঙ্গিদের টার্গেট ভারতের রাজধানী (Delhi)। দিল্লির লালকেল্লার কাছে মন্দির এবং দেশের বড় শহরগুলির ধর্মীয় এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলিতে হামলার...