১২ বছর ধরে কেন্দ্রে বিজেপি। বিজেপিকে জিজ্ঞেস করুন বাঁকুড়ায় এই ১২বছর কী করেছে? রিপোর্ট কার্ড দেখাক। শনিবার, বাঁকুড়ার শালতোড়ার রণসংকল্প সভা থেকে বিজেপিকে নিশানা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। একইসঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে টার্গেট বেঁধে বাঁকুড়ায় ১২-০ করার ডাক তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের।

অভিষেক বলেন, “২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে বাঁকুড়ার ১২টি আসনের মধ্যে চারটিতে আপনারা তৃণমূলকে (TMC) জিতিয়েছিলেন। বাকি আটটিতে জিতেছিল বিজেপির (BJP) প্রতিনিধিরা। ২০২৪ সালের লোকসভায় চার থেকে বেড়ে আমাদের ছয় হয়েছে। এখন তৃণমূল ছয়, বিজেপি ছয়। বিষ্ণুপুর লোকসভার একটি আসন পড়ে খণ্ডঘোষে। বাঁকুড়া (Bankua) লোকসভার একটি আসন পড়ে পুরুলিয়ার (Purulia) রঘুনাথপুরে। বিষ্ণুপুরকে ছয় মারতে হবে, বাঁকুড়াকেও ছয় মারতে হবে। দু’টো ছয় মেরে তৃণমূলের পক্ষে ১২-০ করতে হবে। তৃণমূল জিতলে অধিকার পাবেন। বিজেপি জিতলে অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। তৃণমূল জিতলে দু’মুঠো ভাত। বিজেপি জিতলে সাম্প্রদায়িক সংঘাত। তৃণমূল জিতলে দুয়ারে রেশন, মোদি জিতলে দুয়ারে ভাষণ। তৃণমূল জিতলে মানুষের পাতে ভাত। বিজেপি জিতলে খালি মোদিজির মন কি বাত। কী নেবেন, সিদ্ধান্ত আপনার।”

অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “১২ বছর (কেন্দ্রে) বিজেপি ক্ষমতায়। বিজেপির রিপোর্ট কার্ড কোথায়?” ২০১৯ সালে বাঁকুড়ার দুটি লোকসভা কেন্দ্রেই বিজেপি জিতেছিল। অভিষেক বলেন, “বাঁকুড়া জন্য কী করেছে? এক দিকে আমি আমাদের সরকারের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে যাব। অন্য দিকে বিজেপি রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসবে। ভোকাট্টা করে মাঠের বাইরে বের করে দিতে না পারলে মুখ দেখাব না!”
বিজেপির সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, সুভাষ সরকারকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, “৫০ বছর, ৬০ বছর, ৭০ বছর এই মাটিতে থাকার পরে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে? সুভাষ সরকারের নিজের জন্মের সার্টিফিকেট আছে? সৌমিত্র খাঁয়ের জন্মের সার্টিফিকেট আছে? বিজেপির কেউ সার্টিফিকেট চাইলে বলবেন, আগে তোমার বাবার সার্টিফিকেট নিয়ে এসো।”

এদিনের সভা থেকে একযোগে CPIM-কে দুষে বিজেপির উদ্দেশ্যে তৃণমূল সাংসদ বলেন,”৩৪ বছরের জগদ্দল পাথরকে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করে যে মুক্তির সূর্যোদয় ঘটিয়েছে, তার নাম তৃণমূল কংগ্রেস। নেত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আপনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকাবেন? আগে যান সিপিএমের থেকে একটু ট্রেনিং নিন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্য ধাতুতে তৈরি। তৃণমূল বশ্যতা স্বীকার করতে জানে না।”

বিজেপিকে নিশানা করে অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, “আজকের দিনে দাঁড়িয়ে রাজ্যের ২ লক্ষ কোটি নরেন্দ্র মোদির সরকার আটকে রেখেছে। আমি মিথ্যা বললে, আমার বিরুদ্ধে মামলা করে জেলে ঢোকাবে। রাজ্যে ২৯৪টি বিধানসভা রয়েছে। এক একটি বিধানসভার ৬৮০ কোটি টাকা বিজেপি সরকার আটকে রেখেছে। বাঁকুড়া জেলার ৭ হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে এই বিজেপি। এই টাকা ছাড়লে রাতারাতি বাঁকুড়ার জন্য সাত হাজার কোটি টাকা দিতে পারবে রাজ্য সরকার। এরা চায় বাংলার মানুষ ওদের পা ধরুক। আপনারা তা চান?”

গেরুয়া শিবিরকে তোপ দেগে অভিষেক বলেন, “যারা হিন্দু ধর্মের ধারক বাহক বলে নিজেদের দাবি করে, তাদের নেতা মা দুর্গার বংশপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এই হল বিজেপির আসল চেহারা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অমিত শাহ এসে বলছেন রবীন্দ্রনাথ সান্যাল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম জানে না। ২০১৯ সালের ভোটের আগে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি টুকরো টুকরো করে ভেঙেছিল বিজেপির কর্মীরা। সুকান্ত মজুমদার বলেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ হচ্ছেন অজ্ঞ বামপন্থী প্রোডাক্ট। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মোধন করছেন বঙ্কিমদা বলে। যেন ছোটবেলায় একসঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলতেন।”

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের শালতোড়ায় সভার শুরুতেই প্রাক্তন শালতোড়া ব্লক সভাপতি কালীপদ রায় এবং বাঁকুড়া পুরসভার নির্দলীয় কাউন্সিলর দিলীপ আগরওয়াল দলে যোগদান করেছেন।

–

–


