জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চতুর্থ চিঠি দিয়ে মানবিক হতে পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট কথা, কমিশনের অমানবিক পদক্ষেপের কারণেই মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে, হয়রান হচ্ছেন বয়স্ক মানুষ। শুধু তাই নয়, কমিশনের যান্ত্রিক আচরণের কারণে সাংবিধানিক কাঠামোই আজ প্রশ্ন চিহ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। কমিশনকে পক্ষপাতহীন (unbiased) আচরণ করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর তিন পাতার চিঠিতে এসআইআর (SIR) কতজন মানুষকে কেড়ে নিয়েছে সেই পরিসংখ্যানও দিয়েছেন। কমিশনের দিশাহীন এসআইআর-র কারণে ইতিমধ্যেই বাংলায় ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। চারজন আত্মহননের চেষ্টা করেছেন এবং ১৭ জন অসুস্থ হয়েছেন। কেন এই ঘটনা ঘটছে? মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, আসলে কমিশন ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নির্বাচন কমিশনের মতো একটা স্বাধীন সংস্থার উচিত রাজনৈতিক পক্ষপাতের উর্ধে উঠে মানুষের কথা ভাবা এবং মানুষকে কতখানি সাহায্য করা যায় তা খতিয়ে দেখা।

এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী অমর্ত্য সেনকে পাঠানো চিঠির কথা উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, নোবলজয়ী পৃথিবী বিখ্যাত এই বাঙালি দেশের গর্ব, পৃথিবীর গর্ব। তাঁকে চিঠি পাঠিয়ে আসলে দেশের মাথাই নীচু করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে বয়সের পার্থক্যের কারণেই এই চিঠি। কিন্তু এর সমাধান কী অন্যভাবে করা যেত না? এটাই হচ্ছে কমিশনের যান্ত্রিকতা এবং পক্ষপাতমূলক আচরণের উদাহরণ। এ প্রসঙ্গে তিনি অভিনেতা-সাংসদ দেব, জাতীয় দলের ক্রিকেটার মহম্মদ শামি, কবি জয় গোস্বামী কিনবা ভারত সেবাশ্রম সংঘের মহারাজের কথাও উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, এরা সকলেই বাংলার গর্ব। এদেরকেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। যারা বাংলার গর্ব কিংবা ভারতের গর্ব তাদের সঙ্গে এই যান্ত্রিক আচরণ আসলে কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণকে সামনে এনে ফেলছে। একইসঙ্গে কমিশন যে কতটা পরিকল্পনাহীনভাবে কাজ করছে তা প্রতি পদক্ষেপে স্পষ্ট হচ্ছে। এই সব মানুষকে নোটিশ (hearing notice) পাঠিয়ে কমিশন (Election Commission) ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে যা কমিশনের মতো নিরপেক্ষ সংস্থার কাছে আশা করা যায় না।
আরও পড়ুন : মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগে তৎপর পুলিশ: সিসিটিভি ফুটেজ, ডিভিআর সংগ্রহ

বয়স্করা সবথেকে বেশি হয়রান হচ্ছেন সেইসঙ্গে বিবাহিত মহিলারা সমস্যায় পড়ছেন। মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে লিখছেন, বিয়ের পর পদবী পরিবর্তন কিনবা বাসস্থান পরিবর্তন স্বাভাবিক বিষয়। এই সব জেনেও কমিশন কারণ জানতে চাইছে, নতুন করে পরিচয় জানতে চাইছে বার বার ডেকে পাঠাচ্ছে। চূড়ান্ত হয়রানি। এছাড়াও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে অযৌক্তিক কাজ হচ্ছে, নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সবটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।নামের বানান নিয়েও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজের নামের ইংরেজি বানান উল্লেখ করে বলেন, কেউ এমও লেখে কেউ এমএ লেখে আবার কেউ শেষে ডাবল এ লেখে। আবার কুমার প্রসঙ্গেও একই কথা প্রযোজ্য। কেউ কেউ আবার হয়রান হচ্ছে বাবার নামের বানান নিয়েও। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, কমিশন কোনও রাজনৈতিক দলের ধামাধরা সংস্থা নয়। স্বাধীন সংস্থা। রাজনৈতিক নিরপেক্ষভাবে কাজ করুক। মানুষের ভোগান্তি কোথায় হচ্ছে দেখুক। অযৌক্তিক কাজ বন্ধ করুক। যান্ত্রিকভাবে চিঠি আর নোটিশ পাঠানো বন্ধ করে মানবিক পদক্ষেপ করুক। মানুষ এটা ভালভাবে নিচ্ছেন না। বাংলার একজনও বৈধ ভোটার যাতে বঞ্চিত না হন তাদের জন্য লড়াই চলবে। কারণ ইতিমধ্যেই বহু প্রাণহানি ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। যা মানুষকে নোটবন্দির কালো সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।

–

–

–

–

–


