গোটা রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রায় প্রতিদিন মৃত্যু হচ্ছে বিএলওদের। অথবা অসুস্থ হয়ে তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তাঁদের প্রতি বিন্দুমাত্র সহানুভূতি দেখানো হোক দূরের কথা, অব্যহতি চাইলে ঠিক কেমন ব্যবহার করা হয় কমিশনের (Election Commission) তরফ থেকে, সেই অভিজ্ঞতা হল বাগনানের এইআরও (AERO) মৌসম সরকারের। অব্যহতি দেওয়ার বদলে তাঁকে শাস্তি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিল নির্বাচন কমিশনের (Election Office) সিইও দফতর (CEO Office)।

গত শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের এইআরও পদের কাজ থেকে অব্যহতি চেয়েছিলেন হাওড়ার বাগনানের বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের ব্লক অফিসার মৌসম সরকার (Mausam Sarkar)। তাঁর অব্যহতি পত্রে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার কোন কোন অসংগতির জন্য কাজে বাধা পাচ্ছেন। সেইসঙ্গে বাংলার প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের হয়রানির কারণ যে এই ত্রুটিপূর্ণ এসআইআর প্রক্রিয়া, তা তুলে ধরেছিলেন তিনি নিজের অব্যহতি পত্রে (resignation letter)।

কমিশনের ভুল তুলে ধরার এই ঔদ্ধত্য যে নির্বাচন কমিশন ভালো চোখে দেখেনি তা তাদের উত্তরেই স্পষ্ট। এর আগেও বহু বিএলও অব্যহতির আবেদন করেছিলেন, যা গৃহীত হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সিইও দফতরের (CEO Office) তরফে এই অব্যাহতি পত্রের (resignation letter) উত্তর দেওয়া হয়েছে, যা এক প্রকার হুমকি।
আরও পড়ুন : App-এর ভুলে ১কোটি ৩৬ লক্ষের নাম ‘বাদ’! অভিযোগে AERO পদে অব্যহতির আবেদন

নির্বাচন কমিশনের দাবি, কাজের সমস্যা হলে এইআরও মৌসম সরকার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারতেন। কাজ থেকে অব্যহতি হয় না, সেক্ষেত্রে তাকে বদলি করা যেত। কিন্তু তিনি যে ‘সো কলড’ অব্যহতিপত্র দিয়েছেন তা অর্থহীন। এই গোটা ঘটনা নির্বাচন কমিশনের প্রতি সজোরে অবমাননা এবং ঊর্ধ্বতনের প্রতি অধঃস্তনের অসম্মান এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি অসম্মান প্রমাণ করেছে। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন মেনে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

–

–

–

–

–


