Monday, January 12, 2026

অনুপ্রবেশকারী খুঁজবে AI! নির্বাচনে নতুন গ্যাঁড়াকল শিণ্ডে-ফড়নবিশ জোটের

Date:

Share post:

ভোটের আগে ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে মানুষের উপর নজরদারি আর হয়রানির রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নতুন অ্যাপ ব্যবহার করে যখন প্রায় দেড় লক্ষ বৈধ ভোটারকে ‘ভুয়ো’ তকমা দিয়ে চরম বিপাকে ফেলা হয়েছে, ঠিক তখনই বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রে অনুপ্রবেশকারী খোঁজার নামে নতুন এক প্রযুক্তিনির্ভর চক্রান্তের নীল নকশা তৈরি করল শাসক জোট মহাযুতি। রবিবার মুম্বই পুরভোটের ইস্তাহার প্রকাশ করতে গিয়ে উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ঘোষণা করেছেন, আইআইটির সহায়তায় তৈরি বিশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে শহরে লুকিয়ে থাকা বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, উন্নয়নের ফাঁপা প্রতিশ্রুতির আড়ালে নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের মানুষের উপর রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন চালাতেই এই প্রযুক্তির বর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলার বুকে ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যে ‘মডেল’ দেখা গিয়েছে, মুম্বইয়ের মাটিতে তাকেই আরও ভয়ংকর রূপ দিয়ে এআই ল্যাব আর হাই-টেক নজরদারির নামে এক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে বিজেপি ও জোট। কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা পরিসংখ্যান ছাড়াই রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশিদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ দেগে দেওয়ার এই কৌশল আসলে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর এক গভীর আঘাত।

ফড়নবিশের ইস্তাহারে একদিকে যেমন বাসে মহিলাদের অর্ধেক ভাড়ার টোপ দেওয়া হয়েছে, অন্য দিকে তেমনই সুকৌশলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘ইন্সাইডার-আউটসাইডার’ বা বহিরাগত তত্ত্ব। তিনি দাবি করেছেন, আইআইটি-র গবেষকদের নিয়ে একটি বিশেষ দল গড়া হবে যারা শহরের জনবিন্যাস খুঁটিয়ে দেখে ‘অবাঞ্ছিত’ মানুষদের চিহ্নিত করবে। কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন, যেখানে দেশের খোদ নির্বাচন কমিশনের অ্যাপ সাধারণ নাগরিকদের ‘ভুয়ো’ প্রমাণ করে হয়রান করছে, সেখানে এআই প্রযুক্তির নির্ভুলতা নিয়ে গ্যারান্টি কে দেবে? নাকি এটা আসলে বিরোধী ভোটব্যাঙ্ক সাফ করার এক ডিজিটাল ষড়যন্ত্র?

এদিন ইস্তাহারে মুম্বইকে ‘বিশ্বের পাওয়ার হাউস’ বানানোর কথা বললেও গত ২৫ বছরের ব্যর্থতার দায় এড়িয়ে গিয়েছেন ফড়নবিশ। মজার বিষয় হলো, যে দীর্ঘ সময় তিনি দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন, তার অধিকাংশ সময় বিজেপি নিজেই ছিল পুরপ্রশাসনের অংশীদার। দুর্নীতি রুখতে এআই ল্যাব বা জাপানি প্রযুক্তির কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, এই প্রযুক্তি আসলে ব্যবহৃত হবে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের নাগরিকত্ব আর পরিচিতি কেড়ে নেওয়ার অস্ত্র হিসেবে। মুম্বইয়ের সাধারণ মানুষের একাংশ মনে করছেন, কর্মসংস্থান বা মূল্যবৃদ্ধির মতো জ্বলন্ত সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতেই এখন ‘ডিজিটাল ফরমান’ জারি করে ভয় দেখানোর রাজনীতি শুরু করেছে পদ্ম শিবির।

আরও পড়ুন- পদ্ধতির ভুল তুলে ধরে অব্যহতি চেয়েছিলেন AERO, উল্টে শাস্তি দেওয়ার হুমকি কমিশনের!

_

_

_

_

_

_

spot_img

Related articles

আইন রক্ষায় নিহত বাবা, তাঁরই ছেলে প্রতারণায় জেলে!

দু’দশক আগে এক বর্ষবরণের রাতে তিলোত্তমার বিবেক জাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এক অপরিচিতা তরুণীর সম্মান বাঁচাতে মদ্যপ সহকর্মীদের সামনে...

IND vs NZ: নতুন বছরে বিরাটের ব্যাটিং বিক্রম, জয়ের মধ্যেও থাকল উদ্বেগের ছায়া

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে ৪ উইকেটে জিতল ভারত। ২০২৫ সালেযেখানে শেষ করেছিলেন ২০২৬ সাল সেখান থেকেই শুরু...

সোমে মিলনমেলায় ডিজিটাল যোদ্ধাদের সঙ্গে বৈঠকে অভিষেক

বাংলা বহিরাগত জমিদারদের হাতে অপমানিত, লাঞ্ছিত। সেই বাংলাবিরোধীদের মিথ্যা ও অপপ্রচারের মোকাবিলায় তৃণমূল ময়দানে নামিয়েছে ডিজিটাল যোদ্ধাদের। ডিজিটাল...

পদ্ধতির ভুল তুলে ধরে অব্যহতি চেয়েছিলেন AERO, উল্টে শাস্তি দেওয়ার হুমকি কমিশনের!

গোটা রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রায় প্রতিদিন মৃত্যু হচ্ছে বিএলওদের। অথবা অসুস্থ হয়ে তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তাঁদের...