জীবনের প্রতিটি বাঁকে যেমন ছন্দ লুকিয়ে থাকে, তেমনই নাচ-গান-কবিতা-নাটকের পথে সেই ছন্দকে আঁকড়ে ধরে তিন দশক পার করল ‘নৃতাল ছন্দ ডান্স সেন্টার’। তাদের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল বেলঘরিয়া–নিমতা বয়েস অ্যাথলেটিক প্লে-গ্রাউন্ডে। নৃত্যশিল্পী ও জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার সৌরভ চন্দের পরিচালনায় গড়ে ওঠা এই নৃত্য প্রতিষ্ঠান আজ সাংস্কৃতিক জগতে সুপরিচিত একটি নাম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী ও বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী মালবিকা সেন, ব্রততী চৌধুরী, শ্রিতমা ভট্টাচার্য, দেবপরণা চক্রবর্তী, দেবলীনা দত্ত, কোহিনুর সেন বরাট ও বানিব্রত চক্রবর্তী-সহ আরও বহু বিশিষ্ট অতিথি। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র।

এবছর নৃতাল ছন্দের পথচলার ৩০ বছর পূর্ণ হওয়ায় এই অনুষ্ঠানে ছিল বিশেষ তাৎপর্য। অতিথি শিল্পী হিসেবে অভিনেত্রী শ্রিতমা ভট্টাচার্য পরিবেশন করেন ‘মীরা বাঈ’ নৃত্যনাট্য, যা দর্শকদের গভীরভাবে মুগ্ধ করে। সংস্থার পরিচালক সৌরভ চন্দ বলেন, এই দিনটি তাঁর কাছে আবেগঘন ও স্মরণীয়। দীর্ঘ ৩০ বছরের যাত্রায় অসংখ্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তাঁকে সমৃদ্ধ করেছে। এই উপলক্ষে নৃতাল ছন্দের নতুন লোগোও প্রকাশ করা হয়। তাঁর কথায়, শিল্প মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, আর সেই বিশ্বাস নিয়েই নৃতাল ছন্দের পথচলা।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় শিক্ষার্থীদের রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে। এরপর একের পর এক পরিবেশনায় মঞ্চ মাতায় ‘মীরা বাঈ’ নৃত্যনাট্য, জনপ্রিয় হিন্দি ও বাংলা আধুনিক গান, পাশাপাশি পাশ্চাত্য সুরে নৃত্য। শাস্ত্রীয়, ফ্রিস্টাইলসহ বিভিন্ন ঘরানার নৃত্য পরিবেশন করে ছাত্রছাত্রীরা। ছিল ৩০ বছরের উপলক্ষে বিশেষ পরিবেশনা এবং কেক কাটার অনুষ্ঠানও। সন্ধ্যার আরেকটি উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ ছিল সৌরভ চন্দের নির্দেশনায় বারোজন অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ নাগরিকের নৃত্য পরিবেশনা। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে এই অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীরা নৃত্যের মাধ্যমে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পাওয়ার বার্তা দেন। তাঁদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি দর্শকদের বিশেষভাবে স্পর্শ করে। সব মিলিয়ে, নৃতাল ছন্দ ডান্স সেন্টারের ৩০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছিল ছন্দ, আবেগ ও সৃজনশীলতার এক স্মরণীয় উৎসব।

আরও পড়ুন- SIR আতঙ্ক কাড়ল তিন প্রাণ! বাদুড়িয়া থেকে কালিয়াগঞ্জ, জেলায় জেলায় মৃত্যুমিছিল

_

_

_

_

_
_


