গুরুতর অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন তিনি। হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর মঙ্গলবার এল সেই দুঃসংবাদ। মৃত্যু হল জলপাইগুড়ির বিএলও চ্যাংমারি স্কুলের শিক্ষিকা সুশীলা রায়ের। অভিযোগ উঠছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া (SIR)-এর অতিরিক্ত কাজের চাপই এই মৃত্যুর পেছনে বড় কারণ।

পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার অফিসের কাজ সেরে বাইকে করে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে রাস্তায় পড়ে যান সুশীলা রায়। সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি বাইক তাঁকে ধাক্কা মারে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে একটি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। মাথায় গভীর আঘাত পাওয়ায় তাঁর অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৃত শিক্ষিকার স্বামী। তাঁর দাবি, এসআইআরের অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে বারবারই উদ্বেগের কথা বলতেন সুশীলা রায়। কাজের চাপ সামলাতে না পেরে তিনি মানসিক অবসাদেও ভুগছিলেন বলে পরিবারের অভিযোগ। সেদিনও এসআইআরের কাগজপত্র নিয়ে বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।
এই ঘটনার পাশাপাশি এসআইআর সংক্রান্ত আরও একটি ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে। নকশালবাড়িতে শুনানির জন্য একটি কেন্দ্রে ডেকে পাঠানো হয়েছিল পক্ষাঘাতে আক্রান্ত এক বৃদ্ধাকে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই বৃদ্ধার পরিবারের সদস্যরাও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অমানবিকতার অভিযোগ তুলেছেন। পরপর এই দুই ঘটনায় এসআইআর প্রক্রিয়ার মানবিক দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক মহলে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, পর্যাপ্ত সহায়ক ব্যবস্থার অভাব এবং অসুস্থ ও অক্ষম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নমনীয়তার ঘাটতি—সব মিলিয়ে কমিশনের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

আরও পড়ুন- ভারতের ‘জমির’ উপর দিয়ে চিনের রাস্তাঘাট: PoK হাতছাড়া, স্বীকার বিদেশ মন্ত্রকের

_

_

_

_

_
_


