নির্বাচনের আগে বাংলার নানা প্রান্তে নানা ভাবে অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে বিজেপি ও তাঁদের ইন্ধনে মাথাচাড়া দেওয়া রাজনৈতিক দলগুলি। মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় যেভাবে উস্কানির রাজনীতিতে উত্তপ্ত হয়েছে বেলডাঙা, তা শক্ত হাতে সমালেছে বাংলার প্রশাসন। মহিলা সাংবাদিক ও তাঁর সহকারীর নিগ্রহের ঘটনায় পুলিশি তৎপরতায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতারি জারি রয়েছে। তবে শনিবার বাংলায় এসে সেই বেলডাঙার (Beldanga) অশান্তি প্রসঙ্গে সরব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। তবে সেখানে মহিলা সাংবাদিক নিগ্রহকে হাতিয়ার করে বাংলায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেন মোদি। সেখানেই পাল্টা তাঁকে উন্নাও, হাথরস, ব্রিজভূষণের কথা স্মরণ করিয়ে দিল বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

যে অশান্তির পিছনে কোথাও তৃণমূলের কোনও যোগ নেই, সেই বেলডাঙার অশান্তি নিয়ে অপপ্রচার করে নরেন্দ্র মোদি দাবি করেন, কালই আমরা দেখেছি এক মহিলা সাংবাদিকের (female journalist) সঙ্গে তৃণমূলের গুণ্ডারা কী অভদ্রতা করেছে। তৃণমূলের আমলে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়তেও মহিলারা নিরাপদ নয়। এখানে শাসন প্রশাসনের নির্মমতা এমন যে মহিলারা বিচার পায় না। নির্যাতিতাদের কথায় কথায় আদালতে যেতে হয়। এই পরিস্থিতিকে বদলাতে হবে।

আরও পড়ুন : ম্যাঙ্গো ইকনমিতে মালদহের যুবকদের কাজ! মোদির কাছে পরিযায়ী খুনের উত্তর দাবি তৃণমূলের
শুক্রবার বেলডাঙার এই ঘটনার পরে ঘটনায় যুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে মুর্শিদাবাদ পুলিশ। ইতিমধ্যেই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের বক্তব্য যে সম্পূর্ণভাবে বাংলাকে কালিমালিপ্ত করার জন্য তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের। তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, এই উন্নাও, হাথরস, প্রয়াগরাজ, গুজরাট, ওড়িশা, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশে একের পর এক নারী নির্যাতিতা। সবথেকে বড় কথা, নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) আপনি নারী সুরক্ষার কথা বলছেন, আমাদের সোনার মেয়েদের অসম্মান করা ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে আপনি কোনও ব্যবস্থা নেননি। মহিলা খেলোয়াড়রা যখন বিচার চেয়েছেন, তখন পুলিশ দিয়ে তাঁদের হেনস্থা করেছেন। আর লোকসভায় আপনি ব্রিজভূষণের (Brijbhushan) সঙ্গে বসেছেন। মহিলাদের নিয়ে কথা আপনার মুখে শোভা পায় না। কারণ বিজেপি শাসিত রাজ্যেই মহিলারা সবথেকে বেশি নির্যাতিতা।

–

–

–

–

–

–

