এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যাতে কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে জেলাশাসকদের কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার নবান্নে জেলাশাসকদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আদালতের গাইডলাইন মেনে প্রশাসনকে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসংগতির দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর নেতৃত্বে জেলাশাসকদের একটি বৈঠক চলছিল নবান্নে। সেই বৈঠকে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বহু সাধারণ মানুষ নথিপত্র সংক্রান্ত সমস্যায় পড়ছেন। এই বিষয়টিকে নিছক প্রশাসনিক কাজ হিসেবে না দেখে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট যে সমস্ত নথিকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে, শুনানির সময় সেগুলি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। নথি জমা নেওয়ার পর প্রত্যেককে রসিদ দেওয়ার বিষয়টিও জেলাশাসকদের নিশ্চিত করতে হবে।
পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন, শুনানির নির্দিষ্ট দিনে কেউ আসতে না পারলে তাঁর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে। যাঁরা শারীরিকভাবে অক্ষম বা শুনানি কেন্দ্রে যেতে অসমর্থ, তাঁদের জন্য সুবিধাজনক স্থানে বা বাড়ির কাছাকাছি শুনানির আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দেন, নির্বাচন কমিশনের কাজ চললেও রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি যেন কোনোভাবে থমকে না যায়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি জেলাশাসকদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কাউকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই, রাজ্য সরকার প্রশাসনের পাশে আছে।’
উল্লেখ্য, সোমবারই সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, যাদের নামে অসংগতি রয়েছে, তাদের তালিকা পঞ্চায়েত, ব্লক বা পুরসভা অফিসে ঝোলাতে হবে। ভোটাররা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমেও নথি জমা দিতে পারবেন। এমনকি মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকেও গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে গণ্য করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে নথি দিতে না পারলে সময়সীমা বাড়ানোর নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন- সন্ন্যাসীদেরও রেয়াত নেই! এবার বেলুড় মঠের মহারাজদেরও শুনানিকেন্দ্রে পাঠিয়ে ছাড়ল বিজেপি
_
_
_

_
_

_


