মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার হয়ে ২০০৬ সালে প্রথম পৃথিবীর বাইরে পাড়ি দেওয়া। অজানাকে জানতে অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস মহাশূন্যে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে (ISS) কাটিয়েছেন তিনি। তবে এবার কর্মজীবন শেষ। গত ২৭ ডিসেম্বর অবসর নিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশ বিজ্ঞানী সুনিতা উইলিয়ামস (Sunita Williams)। মঙ্গলবার বিবৃতি দিয়ে জানালো নাসা (National Aeronautics and Space Administration)।


আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এ তিনটি অভিযান সম্পন্ন করেছেন সুনীতা। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে ডিসকভারি শাটলে চড়ে প্রথম মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। নাসার এক্সপিডিশন ১৪/১৫-র ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসাবেও দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চারটি স্পেসওয়াক করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। এরপর ১২৭ দিনের অভিযানে ২০১২ সালে ফের মহাকাশে যান তিনি। ২০২৪ সালে স্টারলাইনারে চড়ে বুচ উইলমোর আর সুনীতা দশ দিনের জন্য আইএসএস গিয়েছিলেন। কিন্তু যান্ত্রিক সমস্যার কারণে দশ মাস আটকে পড়েন সেখানে। অবশেষে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ২৮৬ দিন পর পৃথিবীতে ফেরেন নাসার দুই বিজ্ঞানী। পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক সুনীতা ১৯৯৮ সালে মার্কিন গবেষণা সংস্থায় যোগদান। তারপর থেকে নিজের যোগ্যতায় একের পর এক বড় গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ২৭ বছরের কর্মজীবনে মোট ৬০৮ দিন মহাকাশে কাটিয়েছেন যা নাসার মহাকাশচারীদের ইতিহাসে দ্বিতীয় দীর্ঘতম সময়। তাঁর অবসর গ্রহণ কালে মার্কিন গবেষণা সংস্থার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেন, ‘‘মানববাহী মহাকাশ অভিযানে সুনীতা উইলিয়ামস একজন অন্যতম পথিকৃৎ। মহাকাশ স্টেশনে সুদক্ষ নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে বাণিজ্যিক অভিযানের পথও প্রশস্ত করেছেন তিনি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিতে সুনীতার অবদান দৃষ্টান্তমূলক, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং অসম্ভবের গণ্ডি পেরোতে অনুপ্রাণিত করবে। নাসা তথা সমগ্র জাতির প্রতি একনিষ্ঠ সেবার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’’


মহাকাশের প্রতি সুনীতার টান বরাবরের। আর কোনদিন হয়তো মহাশূন্যে অচেনা-অজানাকে আবিষ্কারের নেশায় সামিল হতে পারবেন না। কিন্তু মাটিতে থেকেও তাঁর মন পড়ে থাকবে সেই মহাকাশের বিস্ময়কর পরিসরে।নাসার আসন্ন আর্টেমিস-২ চন্দ্রাভিযানকে তাই আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে প্রকৃত অর্থেই ঘরে ফিরলেন সুনীতা। খুশি তাঁর পরিবার।



