মণীশ কীর্তনিয়া

ডায়মন্ড হারবার টাউনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বন্ধন পাঠক। ৯ বছর বয়সেই হার্টে ছিদ্র। এদিক-ওদিক ঘুরে চিকিৎসার সুবিধে হয়নি। মূলত খরচা এবং আদৌ কোনো সুরাহা হবে কিনা এসব ভেবে রাতের ঘুম উড়েছে বাড়ির লোকের। দিদার সঙ্গে করে বৃহস্পতিবার নিয়ে এসেছিলেন ডায়মন্ড হারবারের মডেল সেবাশ্রয় ক্যাম্পে। দিশেহারা অবস্থা। চোখমুখে আতঙ্ক। ক্যাম্পে চিকিৎসকরা দেখে কিছু পরামর্শ দিলেন। সম্ভবত অস্ত্রোপচার করতে হবে! দায়িত্ব নিয়েছে সেবাশ্রয়-এর দায়িত্বপ্রাপ্তরা। একপ্রস্থ দেখে আশ্বস্ত করে বাচ্চাটিকে আপাতত বাড়ি পাঠানো হল। এটি রেফার কেস। যেখানে অস্ত্রোপচার হবে তার সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে।


৭৪ বছরের নুরুল আফসার। ব্লেড দিয়ে নখ কাটতে গিয়ে ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে গ্যাংগ্রিনের অবস্থা। আঙুল একটা জায়গা পর্যন্ত কালো হয়ে গিয়েছে। হাঁটার অবস্থা নেই। হুইলচেয়ার সঙ্গী হয়েছে। বৃদ্ধকে নিয়ে বাড়ির লোক এসেছেন ক্যাম্পে। চিকিৎসকরা দেখে আপাতত ওষুধ দিয়েছন। অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। নইলে পায়ের অবস্থা আরো খারাপ হবে। দায়িত্ব নিয়েছে সেবাশ্রয় এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিম। রেফার কেস। অন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সবটা করানো হবে। শুনে নিশ্চিন্ত হয়ে ফিরলেন নুরুল।


এ দুটি উদাহরণ মাত্র। এরকম অসংখ্য কেস হ্যান্ডেল করছেন এই মডেল ক্যাম্পের চিকিৎসক— তাঁদের সহযোগী এবং টিম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওঁরাই জানালেন, দিনে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আসছেন ক্যাম্পে। একজনও যাতে নিরাশ হয়ে ফিরে না যান তার ব্যবস্থা হয়েছে। নজরদারি রয়েছে। এখানে একই ছাদের নিচে একাধিক বিষয়ে চিকিৎসার সুযোগ। সঙ্গে বিনামূল্যে ওষুধ। যে ওষুধ এখানে নেই তা নিজেদের খরচে বাইরে থেকে এনে সংশ্লিষ্ট রোগীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সব থেকে বড় কথা অন্যান্য সাধারণ বিভাগের সঙ্গে এই মডেল ক্যাম্পে যুক্ত হয়েছে বন্ধ্যাত্ব ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা। এর জন্য রয়েছেন মহিলা চিকিৎসক এবং মহিলা সহযোগী। যাতে মহিলারা অস্বস্তিতে না পড়েন। মন খুলে চিকিৎসকদের সঙ্গে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে পারেন। রয়েছে আর এর দুর্বলতা বিষয়ক চিকিৎসা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থাও। ১৬ তারিখ থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্প চলবে ২৮ তারিখ পর্যন্ত। আজ সরস্বতী পুজো উপলক্ষে একদিন মাত্র বন্ধ থাকবে।


বৃহস্পতিবার মডেল ক্যাম্পে ঢুকে দেখা গেল হাজার হাজার মানুষ রেজিস্ট্রেশন লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। চিকিৎসকদের রুমে রয়েছেন। ওষুধ নিচ্ছেন পরীক্ষা করাচ্ছেন। আর নিরলসভাবে গোটা বিষয়ই সামাল দিচ্ছেন ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভলেন্টিয়াররা। এখানকার কো-অর্ডিনেটর-ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং পরিচিত তৃণমূল নেতা শামিম আহমেদ বললেন, আমাদের সকলের প্রিয় নেতা আমাদের সংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত এই সেবাশ্রয় ক্যাম্প। অনেক আগে থেকে শুরু হওয়া অন্যান্য ক্যাম্প গুলি আজ শেষ হয়ে গেলেও এই মডেল ক্যাম্প চলবে। প্রতিটি বিধানসভায় মডেল ক্যাম্প করা হবে। আমাদের লক্ষ্য একজন মানুষও যাতে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে না যান সেটা দেখা। তার জন্য যা যা করার আমরা করছি। প্রতিমুহূর্তে খোঁজ নিচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরাও খবর দিচ্ছি কোথাও কোনও সমস্যা হলে বা বিশেষ রেফার করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে জানানো হলে তিনি সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। আমাদের দম ফেলার ফুরসত নেই। মানুষকে পরিষেবা দেওয়াই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। এটাই নির্দেশ আমাদের তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। আমরা দিনরাত সেই কাজটাই করে চলেছি। উল্লেখ্য ডায়মন্ড হারবারের সফল সেবাশ্রয় (দ্বিতীয়) হওয়ার পর নন্দীগ্রাম, রাজারহাট, ব্যারাকপুরেও এই ধরনের সেবাশ্রয় ক্যাম্প হয়েছে। বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আবেদন আসছে তাদের এলাকায় এই ধরনের ক্যাম্প করার জন্য। সাংসদ-বিধায়ক-মন্ত্রীরা খোঁজ নিচ্ছেন। কেননা এক ছাদের নিচে এভাবে মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার মতো অভিনব পদ্ধতি আর কোথায়! পথ দেখিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাইতো আজ মানুষের আশ্রয় হয়ে উঠেছে সেবাশ্রয়।


আরও পড়ুন- প্রতিটি বিভাগে কত বেড ফাঁকা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জানাতে হবে! নির্দেশ আদালতের

_

_

_

_
_

