RTI আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। কিন্তু মোদি সরকারের জবাবদিহি নাপসন্দ। মেহুল চোকসি, নীরব মোদি, বিজয় মালিয়া এই অভিযুক্তরা দেশ থেকে টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। কেন পালালেন-সহ আরও প্রশ্নের উত্তর আর না দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে মোদি সরকার। জবাব দেওয়ার জন্য বার বার আরটিআই বিজেপিকে (BJP) অস্বস্তি ফেলেছে। এই কারণেই আরটিআই আইনকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে লোকসভায় ‘অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-২৬’ রিপোর্ট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ (Nirmala Sitaraman)। অভিযোগ উঠেছে, গোপনীয়তার অজুহাতে সেখানেই আরটিআই-কে দমানোর চেষ্টা হয়েছে। সীতারমণ রিপোর্ট পেশ করে আরটিআই আইনের ‘পর্যালোচনা এবং সংশোধনের’ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গোপনীয়তার অজুহাতে আরটিআই আইনের আওতা থেকে কিছু অভ্যন্তরীণ নথি ও ড্রাফট রিপোর্ট বাদ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সমীক্ষা রিপোর্টে দাবি, বেশি তথ্য প্রকাশ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়ার অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদিও তা মানতে রাজি নন, তথ্যের অধিকার আন্দোলন কর্মীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, এর ফলে তথ্য গোপন করে জনবিরোধী পদক্ষেপের পরিসর তৈরি করতে চাইছে কেন্দ্র।
আরও খবর: ভূস্বর্গে লুকিয়ে জইশ জঙ্গি! কিশতওয়ারে চিরুনিতল্লাশি নিরাপত্তাবাহিনীর

প্রথম UPA সরকারের আমলে ২০০৫ সালে তথ্যের অধিকার আইন তৈরি হয় দেশে। এই আইনের দৌলতে সাধারণ মানুষ সরকারের কাছে জবাবদিহি চাইতে পারে।তথ্যের আইন, ২০০৫-এর ধারা ২ (এফ) অনুযায়ী, সরকারি রেকর্ড, রিপোর্ট, মেমো এবং সার্কুলার ‘তথ্য’ হিসাবে গণ্য হয়, যা নাগরিকরা চাইতে পারেন। আরটিআই আইন গণতন্ত্রে জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করে, এবার কি তাহলে সেই পথ বন্ধ করতে চাইছে মোদি সরকার? এই প্রশ্নই সর্বত্র।

–

–

–

–

–

–

–


