বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রতিবাদের সুর চড়ালেন শেখ হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার বিকেলে কলকাতার আইসিসিআর-এ আয়োজিত একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যা চলছে তা কোনও নির্বাচন নয়, বরং একটি ‘সাজানো’ প্রক্রিয়া। গণতন্ত্র বাঁচাতে দেশের সাধারণ মানুষকে ভোটদানে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এ দিন ‘বই প্রকাশ’ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বাংলাদেশে হিন্দু ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর চলা নিপীড়নের কথা। জয় অভিযোগ করেন, নির্বাচনে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে তা নয়, বরং দেশের সমস্ত প্রগতিশীল ও অ-মৌলবাদী শক্তিকে সুপরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, জামাতের চেয়েও বেশি ভোট পাওয়া জাতীয় পার্টির ওপর যে ভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছে— অফিস পুড়িয়ে দেওয়া বা বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া— তাতে কোনও সুস্থ নির্বাচন সম্ভব নয়।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাসিনা-পুত্র দাবি করেন, ব্যালট পেপার এবং পোস্টাল ব্যালটের হিসেবে ব্যাপক কারচুপি চলছে। এমনকি সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষও জানেন না কত কোটি বাড়তি ব্যালট ছাপানো হয়েছে। বিদেশের মাটিতে বসেও কেউ ব্যালট বাক্স ভর্তি করে দিচ্ছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। জয়ের আশঙ্কা, এই নির্বাচনে বিএনপি হয়তো ১৫০টির বেশি আসন পাবে না, কিন্তু জামাত ১২০ থেকে ১৩০টি আসন পেয়ে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশে কোনও আইনশৃঙ্খলা নেই দাবি করে জয় বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর আবেদন, আপনারা ভোট দিতে যান বা না যান, নির্বাচন হয়তো হবে, কিন্তু ভোট না দিলে এই প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। বাংলাদেশকে মৌলবাদের হাত থেকে রক্ষা করতে এটাই একমাত্র পথ বলে মনে করছেন তিনি।

প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক জয়ন্ত ঘোষাল, সায়রা শাহ হালিম, রোহন মিত্র প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন বইটির দুই লেখক শাহিদুল হাসান খোকন এবং দীপ হালদার। বাংলাদেশের এই অস্থির সময় এবং নির্বাচনী ভবিষ্যৎ নিয়ে জয়ের এই বিস্ফোরক মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন- বঙ্গভবনে এবার রাজ্য পুলিশের পাহারা! বিমানে দিল্লি যাচ্ছে র্যাফ-ডিএসপি-র বিশেষ দল

_

_

_

_
_


