উৎসবের আনন্দ যেন অন্যের কষ্টের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে ফের কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। আসন্ন শবেবরাতে রাতভর শব্দবাজির তাণ্ডব রুখতে কড়া নির্দেশিকা জারি করল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। সোমবার আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শবেবরাতের রাতে ১০টা থেকে পরদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত কোনোভাবেই আতশবাজি বা শব্দবাজি ফাটানো যাবে না।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয়। মামলাকারী সাগুফতা সুলেমানের অভিযোগ ছিল, প্রতি বছর শবেবরাতের সময় কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবাধে শব্দবাজি ফাটানো হয়, যা নিয়মবহির্ভূত। শুনানির পর আদালত স্পষ্ট জানায়, রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত বাজি ফাটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্ধারিত মানদণ্ড মেনেই কেবল অনুমোদিত বাজি ব্যবহার করা যাবে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে পুলিশকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ও উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

মামলাকারীর পক্ষে দাবি করা হয় যে, কোরানের কোথাও বাজি ফাটিয়ে শবেবরাত পালন করার কথা বলা নেই। এটি মূলত একটি ধর্মীয় উৎসব হলেও বাজি ফাটানোর বিষয়টি একটি কুপ্রথায় পরিণত হয়েছে। কালীপুজো, বড়দিন বা ছটপুজোর ক্ষেত্রে আদালতের সুস্পষ্ট গাইডলাইন থাকলেও, শবেবরাতের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ না থাকায় গত বছরগুলোতে পার্ক স্ট্রিট বা রিপন স্ট্রিটের মতো এলাকায় সারারাত বাজি ফাটানো হয়েছে। এর ফলে অসুস্থ ব্যক্তি, বৃদ্ধ, শিশু এবং পথপ্রাণীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি শবেবরাত। তার আগে আদালতের এই নির্দেশ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, উৎসবের নামে আইন হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। গত বছর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের বেঞ্চ একই ধরনের নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়নে ঘাটতি ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। তাই এবার পুলিশ ও প্রশাসনকে অনেক বেশি সতর্ক থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন- গণতন্ত্র বিপন্ন! ওপার বাংলার ‘প্রহসন’ নিয়ে সরব হাসিনা-পুত্র সজীব

_

_
_

_
_

_
_


