পড়াশোনা করার স্বপ্নের পথে বাধা পারিবারিক সিদ্ধান্ত, সহ্য করতে পারল না মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। চরম সিদ্ধান্ত নিতেই ত্রাতা হয়ে পাশে দাঁড়ালেন আইসি। জীবনের প্রথম বড় বোর্ড পরীক্ষা নিয়ে সবার মধ্যেই একটা টেনশন কাজ করে। কিন্তু নিউ ফরাক্কা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীর মনে অন্য আতঙ্ক। বাবা বলেছে পরীক্ষার পরেই বিয়ে দিয়ে দেবে। তাহলে কি স্বপ্নপূরণ হবে না? পরিবারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে গঙ্গায় ঝাঁপ দিতে বাধ্য হন কিশোরী। মঙ্গলবার মালদহ ও মুর্শিদাবাদ সীমান্তের(Maldah & murshidabad border) এই ঘটনায় যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে স্থানীয় তৃণমূল নেতা লালু শেখের তৎপরতায় পরীক্ষার্থীকে দ্রুত উদ্ধার করে সুস্থ করে তোলা হয়। খবর পেয়েই সেখানে ছুটে যান ফরাক্কা থানার(Farakka Police Station) আইসি সুজিত পাল (Sujit Paul)। গোটা ঘটনা জানার পর ছাত্রীকে আশ্বাস দেন যে তাঁর পড়াশুনা করার ইচ্ছের পথে কোনমতেই বিয়ে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। পুলিশের ভূমিকায় খুশি স্থানীয়রা।

মালদহ জেলার (Maldah) বৈষ্ণবনগর থানার (Baisabnagar police station) টাউনশিপ মোড়ের বাসিন্দা ওই ছাত্রীর মাধ্যমিক পরীক্ষার সিট পড়েছিল ফরাক্কার স্বর্ণময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে। কিন্তু এদিন সে স্কুলে না গিয়ে ব্রাহ্মণনগর গঙ্গার ঘাটে ঝাঁপ দেয় কিশোরী। পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় তাঁকে জল থেকে উদ্ধার করা হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। বলেন, জোর করে তাঁর অমতে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরেই জীবন শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। এরপরই আইসি নিজে মেয়েটির পড়াশোনা সব দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়ে পড়ুয়াকে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য স্কুলে পাঠান। পাশাপাশি তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, নাবালিকার বিয়ে দেওয়া আইনত অপরাধ। এই বিষয়ে ছাত্রীর বাবা-মাকে থানায় দেখা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

–

–

–

–

–

–

–

–


