Wednesday, February 25, 2026

ধনীদের ছাড়, দরিদ্রদের উপর রোজগারের দায়: ১২ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘটের ডাক CPI(ML)-এর

Date:

Share post:

কেন্দ্রীয় বাজেটের অন্তঃসারশূন্যতা নিয়ে গোটা দেশে আলোচনা অব্যাহত। যেভাবে দেশের সাধারণ মানুষের উপর থেকে ভার লাঘব করার বদলে বড় ব্যবসায়ীদের ছাড়ের আওতায় ফেলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সরব সব বিরোধী রাজনৈতিক দল। তার উপর আমেরিকার সঙ্গে এমন বাণিজ্য চুক্তি (India-US trade deal) করতে চলেছে মোদি সরকার যার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়বে ভারতের কৃষকদের উপর। প্রতিবাদে এবার ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে ধর্মঘটের (strike) ডাক দিল সিপিআই (এমএল) (CPIML)।

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ধোঁয়াশা নিয়ে সরব দেশের বিরোধীরা। সেখানেই সিপিআই (এমএল)-এর পক্ষে সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য (Dipankar Bhattacharya) প্রশ্ন তোলেন, আমেরিকা সূত্রে জানা গেল, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হয়ে গিয়েছে। এতে মোদি সরকার ও আমেরিকার বক্তব্য আলাদা। ভারতের তরফ থেকে এমনভাবে জানানো হচ্ছে যেন তাঁরা বিশ্ব জয় করে চলে এসেছেন। কিন্তু ট্রাম্পের যে বিবৃতি তাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে এতে সম্পূর্ণ লাভ থাকবে আমেরিকার। ভারতের জিনিসের উপর ১৮ শতাংশ শুল্ক থাকবে। ভারতে যে আমেরিকা যা বিক্রি করে, এমনকি কৃষিক্ষেত্রের জিনিসও বিক্রি করবে, তাতে শুল্ক শূন্য। আমরা শূন্য, ওরা ১৮।

সেই সঙ্গে দাবি জানানো হয়, রাশিয়া থেকে তেল আর আসবে না। তেল এখন আসবে আমেরিকা থেকে। তেল আসবে ভেনেজুয়েলা থেকে, যার উপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে আমেরিকার। পুরো চুক্তি সম্পর্কে যা শোনা যাচ্ছে তা অত্যন্ত উদ্বেগ জনক। ভারতের জন্য আপত্তি জনক। ভারত সরকার এবার পরিস্কার করুক কী শর্তে এই চুক্তি।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের (Nirmala Sitharaman) বাজেট দেখে শেষ পর্যন্ত ফের ধর্মঘটের পথে যাওয়ার ঘোষণা সিপিআই(এমএল)-এর। বাজেট নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, বাজেটে আমরা দেখলাম এমন একটা সময়ে যখন টাকার মূল্য ক্রমাগত কমছে, গোটা বিশ্বে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত সংকটজনক সেখানে বাজেটে সবথেকে বড় কৃতিত্ব দেওয়া হল আমরা খরচ কম করে দিয়েছি। খরচ যদি কমে ও আয় যদি না বাড়ে তবে রাজস্ব কমবে। মূল প্রশ্ন ছিল আয় বাড়ানো।

আরও পড়ুন : সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষে উস্কানি দিচ্ছে বাংলা দখলে মরিয়া বিজেপি: দীপঙ্কর, নিশানায় SIR-ও

এই বাজেট কতটা সাধারণ মানুষের বিরোধী তা তুলে ধরে সিপিআই(এমএল)-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, প্রধান প্রশ্ন ছিল কর্পোরেট ট্যাক্স। জিএসটি (GST) ও সাধারণ মানুষের আয়কর (income tax) সরকারের প্রধান আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কর্পোরেট ট্যাক্স বাড়িয়ে যে আয় বাড়ানোর দরকার ছিল তা না করে, কর্পোরেট ট্যাক্স আরও কমিয়ে দেওয়া হল। অন্যদিকে যে খাতে খরচ বাড়ানো দরকার ছিল। শিক্ষাক্ষেত্রে জিডিপি-র ৬ শতাংশ কতদিন ধরে চলে আসছে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে জিডিপি-র ৫ শতাংশ করা উচিত ছিল। তার জায়গায় আড়াই শতাংশ চলে আসছে।

spot_img

Related articles

প্রবল তুষারপাতে বন্ধ রাস্তা, সেনা নামিয়ে উদ্ধার কয়েক হাজার পর্যটক

প্রবল তুষারপাতে বিপর্যস্ত উত্তর- পূর্ব সিকিম (North-East Sikkim)। ভরা মরশুমে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন বহু...

অভিষেকের নির্দেশে পাকিস্তানে আটক মৎস্যজীবীদের বাড়ি তৃণমূলের সাংসদ-বিধায়ক

নামখানার তিন জন মৎস্যজীবী আটক রয়েছেন পাকিস্তানে। তিন বছর হয়ে গেল খোঁজ নেই আজও। এদিকে চিন্তায় রয়েছেন তাঁর...

মোদি সরকারের বইতে বিচার ব্যবস্থার অবমাননা: NCERT-র বিরুদ্ধে মামলার পথে সুপ্রিম কোর্ট!

খোদ কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনে এনসিইআরটি। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বর্ষের একাধিক সিলেবাসে এমন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যা...

উদাহরণ কেরালম, ফের দিল্লিকে ‘ইন্দ্রপ্রস্থ’ করার দাবি জানিয়ে চিঠি বিজেপি সাংসদের

বামশাসিত কেরালার নাম বদলে সিলমোহর মিলতেই ফের রাজধানীর নাম পরিবর্তনের ধুঁয়ো তুলল বিজেপি। মঙ্গলবারই, রাজ্যের দাবি মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে...