গোমাংস বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন ইনফ্লুয়েন্সার (Influencer)-ভ্লগার (vlogger) সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakraborty)। শুটিং (Shooting) ফ্লোরে এক শিশুশিল্পীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগের পর এবার তাঁর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনলেন সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার স্যান্ডি সাহা(Sandy Saha)।

সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার(Interview) দিতে গিয়ে স্যান্ডি সাহা জানান, সায়কের আচরণ তিনি কোনওভাবেই সমর্থন করেন না। তাঁর কথায়, “আমাদের মধ্যে অনেক ঝগড়াঝাটি হলেও একটা সময় পর্যন্ত ভালো সম্পর্ক ছিল। পরে একটি রোস্টিং ভিডিও বানানোর পর আমাকে ব্লক করে দেওয়া হয়। যদিও এর আগেও ব্যক্তিগত কারণে আমি ওকে ব্লক করেছিলাম। সে সব নিয়ে আমি কখনও প্রকাশ্যে কিছু বলিনি। কিন্তু এবার সত্যিটা সামনে আনার সময় এসেছে।”

স্যান্ডির অভিযোগ, প্রায় তিন-চার বছর আগে সায়ক মদ্যপ অবস্থায় তাঁর সঙ্গে যৌন নির্যাতন করেন। তাঁর দাবি, একটি ভিডিও শুট করার জন্য সায়কের বাড়িতে গিয়েছিলেন। শুটিং শেষ হওয়ার পরই ওই ঘটনা ঘটে। সেই সময় বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। কারণ হিসেবে স্যান্ডি বলেন, “তখন টেলিভিশনের দৌলতে ওর একটা ভালো ইমেজ ছিল। আর আমার কনটেন্টকে হয়তো কেউ গুরুত্ব দিত না। আমি ভেবেছিলাম মুখ খুললে উল্টে আমিই বিপদে পড়ব।” আরও পড়ুন: প্রেমিকাকে নিগ্রহের অভিযোগ কনটেন্ট ক্রিয়েটারের বিরুদ্ধে

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি শিশুশিল্পীকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ শোনার পরই তাঁর মনে হয়েছে, আর চুপ করে থাকা উচিত নয়। “ও যদি আমার সঙ্গে এটা করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও অনেকের সঙ্গেই এমন ঘটতে পারে। ওই ঘটনাটা আজও আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। প্রয়োজন হলে আমি আইনি পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত,” জানান স্যান্ডি।

এই প্রসঙ্গেই উল্লেখযোগ্য, এর আগে কোনও নাম না করে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছিলেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের(Leena Gangopadhyay) ছেলে অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়(Arka Gangopadhyay)। তাঁর পোস্টে ইঙ্গিত ছিল এক ভাইরাল ভ্লগারের দিকে, যাঁর বিরুদ্ধে কয়েক বছর আগে একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকের শুটিং সেটে শিশুশিল্পীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার কান পর্যন্ত পৌঁছেছিল বলে দাবি করা হয়। জানা যায়, অভিযুক্ত ভ্লগার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার পর বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।

অর্ক তাঁর পোস্টে লেখেন, “আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে দুর্ব্যবহার বা যৌন হেনস্থার মতো গুরুতর অভিযোগও অনেক সময় মেনে নেওয়া হয়। সেই সুযোগেই অপরাধীরা বারবার একই ধরনের কাজ করার সাহস পায়।” অপরাধের ধরন বদলালেও অপরাধীর মানসিকতা বদলায় না বলেই মন্তব্য করেন তিনি।

–

–

–

–


