এসআইআর (SIR) হেনস্থার আবহে আরও এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী থাকল মালদহ। শুনানিতে হাজিরা দিতে গিয়ে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় (Road accident) স্ত্রী ও নয় মাসের শিশুপুত্রকে হারালেও, সমস্ত শোক চাপা দিয়ে শুনানিকেন্দ্রে হাজিরা দিতে হল এক স্কুলশিক্ষককে (School Teacher)।

শিক্ষকের নাম ইয়াসিন আনসারি (Yasin Ansari)। তাঁর বাড়ি মালদহ(Maldah) জেলার গাজল থানার খড়দহিল এলাকায়। কর্মসূত্রে তিনি থাকেন কালিয়াচকে (Kaliachke) এবং সুজাপুর নয়মৌজা হাই মাদ্রাসায় (Madrasa) শিক্ষকতা করেন। তাঁর সঙ্গে থাকতেন স্ত্রী হালিমা খাতুন (Halima Khatun) এবং নয় মাসের পুত্রসন্তান আরিফ হাসান (Arif Hasan)।

পরিবারের সূত্রে খবর, নামের বানান ভুলের কারণে ইয়াসিন ও তাঁর স্ত্রীকে শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই কারণেই শুক্রবার গাজলের শুনানিকেন্দ্রে যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে নিয়ে খড়দহিলের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন ইয়াসিন। বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছনোর জন্য টোটো করে আমবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন তাঁরা।

সুস্তানি এলাকায় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় টোটোটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় হালিমা খাতুনের। গুরুতর আহত অবস্থায় নয় মাসের আরিফকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর পেয়েও প্রশাসনিক চাপে পড়ে স্ত্রী ও সন্তানের দেহ মালদহ মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রেখেই শুনানিকেন্দ্রে হাজিরা দিতে যান ইয়াসিন আনসারি। আত্মীয়স্বজনেরা জানিয়েছেন, শুনানি শেষ করে হাসপাতাল থেকে ফিরে এলেই দেহ কবর দেওয়ার কাজ শুরু হবে।

–

–

–

–

–

