শেষদিনের শুনানিতেও সাধারণ মানুষকে নাকাল হতে হল। কমিশনের তুঘলিকপনায় তিতিবিরক্ত মানুষ। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শনিবার বাংলায় এসআইআর শুনানির শেষদিন ছিল। কিন্তু মানুষকে নাকাল করেও কি কমিশন নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারল শুনানি? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে-কথা প্রথম দিন থেকে বলে আসছিলেন, সেটাই মিলে যাচ্ছে। এসআইআর শুনানি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ তো হলই না, নথিপত্র আপলোডও বাকি অনেক। তাহলে কী করে সম্ভব চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ? ফের সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এই মর্মে ঝড় উঠতে চলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের সেই দাবি নিয়েই সওয়াল করবেন শীর্ষ আদালতে।

এদিকে শুনানির সময়সীমা বাড়াতে চেয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল৷ পাশাপাশি চূড়ান্ত ভোটার তালিকার প্রকাশের সময়সীমাও বাড়াতে চেয়ে কমিশনকে চিঠি দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক৷ মুখ্যমন্ত্রী বরাবর বলে এসেছেন, এই স্বল্প সময়ে এসআইআর করা অসম্ভব। ২৪ বছর পর তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করার অর্থ কী? এটা কি তাহলে আদতে নাম বাদ দেওয়ার একটা ষড়যন্ত্র? এখন জলের মতো পরিষ্কার, একবার সময়সীমা বাড়িয়েও শুনানির কাজ শেষ করতে পারছে না কমিশন। শেষদিনে ২২ লক্ষের কাছাকাছি শুনানি বাকি। তড়িঘড়ি সেই শুনানিতে নাকাল হতে হয়েছে বাংলার জনসাধারণকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নামের বানানে ভুল। ভুল পদবি পরিবর্তনে।

মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছিলেন, বিবাহসূত্রে পদবি পরিবর্তন হওয়ায় শুনানিতে তলব করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বানান কে-কেমন লিখল, তা নিয়ে তো রবীন্দ্রনাথ বাদ পড়তে পারেন না! বিষয়টি অনুধাবন করেছে সুপ্রিম কোর্টও। শেষদিনেও দেখা গেল বিভিন্ন শুনানি কেন্দ্রে শুধু নামের বানান ভুলে, পদবি পরিবর্তনের কারণে মানুষকে হয়রান হতে হচ্ছে। কমিশন তা সত্ত্বেও অনড়। নির্ধারিত সময়ে শুনানি শেষ হবে না জেনেও হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে তারা। যোগী-রাজ্যে কিন্তু এসআইআরের সময়সীমা ফের বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বাংলায় চলছে হয়রানি। এমন দ্বিচারী কমিশন।

এ-রাজ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদহে সবথেকে বেশি শুনানি বাকি। উত্তর কলকাতা ও কার্শিয়াংয়েও শুনানির কাজ অনেকটা বাকি। জেলাগুলির তরফে শুনানির সময় বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে। জানা যায়, ১৫ থেকে ২০টি বিধানসভা এলাকায় শুনানির কাজ বাকি রয়েছে। শনিবারের মধ্যে তা শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক চিঠি লিখতে পারেন কমিশনকে। অবশেষে সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করতে পারেন। আবেদন করতে পারেন নথি আপলোডের সময়সীমা বাড়ানোরও। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন, তাহলে কেন তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করা হল, কেন সময় নিয়ে তা করা গেল না। বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে বহিরাগতদের ঢুকিয়ে ভোট-ফায়দা লোটাই কি তাহলে তাদের অভিষন্ধি? কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি এবং আনম্যাপড ভোটার মিলিয়ে মোট ১ কোটি ৫১ লক্ষ ৯২ হাজার ৭৩৫ ভোটারকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে শেষদিনে ২২ লক্ষ শুনানি বাকি ছিল। তথ্যযাচাই বাকি ছিল ৭২ লক্ষের। সম্পূর্ণ তথ্য আপলোডের কাজও শেষ হয়নি। অন্তত ১৫ শতাংশ আপলোড বাকি। এই হল তাড়াহুড়োর ফল।

আরও পড়ুন- বামশাসিত কেরলে ভয়ঙ্কর অবস্থা! তোলাবাজির টাকা না পেয়ে স্পা কর্মীকে গণধর্ষণ

_

_

_

_

_
_

