বারাসতের তিনবারের বিধায়ক। সামনে চতুর্থবারের হাতছানি। তাও এবারের বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে চান না তৃণমূলের তারকা বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী (Chiranjit Chatterjee)। কারণ? ভোটের আগে এই সরকারের শেষ অধিবেশনের শেষদিনে চিরঞ্জিত বিধানসভায় জানালেন, ”যে এনার্জি ছিল, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষমতা ছিল, তা কমেছে। তাই আর দাঁড়াতে চাই না।”

২০১১-এ প্রথম মা-মাটি-মানুষের সরকারের সময় থেকেই বারাসতের (Barasat) বিধায়ক চিরঞ্জিত (Chiranjit Chatterjee)। কিন্তু এবারে বিধানসভা ভোটে আর প্রার্থী হতে চান না তিনি। শনিবার বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ”যে এনার্জি ছিল, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষমতা ছিল, তা কমেছে। তাই আর দাঁড়াতে চাই না।” তাহলে কি তাঁকে দেখা যাবে না ছাব্বিশের নির্বাচনে? চিরঞ্জিত বলেন, ”আমার তিনবার বিধায়ক হওয়া হয়ে গিয়েছে। এবার চতুর্থবার। কিন্তু এখন আমা মনে হচ্ছে, আমার যে এনার্জি ছিল, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে ক্ষমতা ছিল, সেটা কমছে। আমি অত জোরে আর দৌড়তে পারি না। সিনেমায় আর ফাইট করতে পারি না। ফলে ছবিতেও ভূমিকা পালটে যাচ্ছে। সেই পরিবর্তনটা আমি মেনে নিতে চাইছি। রাজনীতি যেহেতু খুব পরিশ্রমের জায়গা, বড় কাজের জায়গা। সেটা আমি প্রায় করতে পারি না। তাই এখানে যদি আর না থাকি, ভালো হয়।”

তাহলে কী দলনেত্রী বললেও তিনি প্রার্থী হবেন না? উত্তরে চিরঞ্জিত বলেন, ”উনি তো দূরদর্শিনী, তাঁকে কি অস্বীকার করা যায়? মনে হয় যায় না। আমি অনুরোধ করতে পারি। তবে তিনি খুব ভালো বোঝেন, কাকে প্রয়োজন, কতটুকু প্রয়োজন।”

এর আগেও চিরঞ্জিত চক্রবর্তী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কথায় ২০২১-এর নির্বাচনে লড়েন। এবং জেতেন। এর আগে ঘাটালের সাংসদ দেবও লোকসভা নির্বাচনে লড়তে চাননি। শর্ত দিয়েছিলেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের পথ ধরলে তবেই তিনি সাংসদ হবে। তাঁর আর্জি মেনে নেন মমতা-অভিষেক। সাংসদ হন দেব। এখন চিরঞ্জিতকেই আবার মমতা বারাসতে প্রার্থী করতে চান কি না সেটাই দেখার।

–

–

–

–

–

–

