বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি পুরোপুরি ব্যর্থ, তাই প্রকৃত বিরোধী রাজনীতির পাঠ নিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি নেতৃত্বের উচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়া। রবিবার শ্রীরামপুর পুরসভার উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এভাবেই গেরুয়া শিবিরকে বিঁধলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দিল্লিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখিয়ে দিয়ে এসেছেন বিরোধী ধর্ম কাকে বলে।

রবিবার শ্রীরামপুরের নেতাজি ভবনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিরোধী দল কীভাবে করতে হয়, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে শিখে নেওয়া উচিত। বিজেপি দিদিকে অনুরোধ করতে পারে যে তাঁদের একটু শিখিয়ে দিতে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীকেও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, দরকার হলে মোদিজিও ওঁর কাছে ট্রেনিং নিতে পারেন। লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে দিল্লিতে তৃণমূল নেত্রীর সক্রিয়তা এবং জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রভাবের প্রসঙ্গ টেনেই এই মন্তব্য করেছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ।

সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন প্রসঙ্গে বিরোধীদের সমালোচনারও কড়া জবাব দিয়েছেন এই আইনজীবী-সাংসদ। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে যাননি। ভারতের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রয়েছে নিজের কথা আদালতের কাছে পেশ করার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনস্বার্থেই সেই পদক্ষেপ করেছেন। তাঁর আবেদন শুনেই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে যে, দরকারে সময় বাড়ানো হবে এবং সামান্য ভুলের জন্য কারও নাম বাদ দেওয়া যাবে না।

অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতাকে কটাক্ষ করে কল্যাণ বলেন, উনি কী বললেন তাতে কিছু যায় আসে না। এমনিতেই এবারই উনি শেষবারের মতো বিধায়ক। বিজেপি বর্তমানে এলাকায় যে হ্যান্ডবিল বিলি করছে, তাতে প্রকাশকের নাম বা মুদ্রণ সংস্থার উল্লেখ না থাকায় সরব হয়েছেন তিনি। কল্যাণের দাবি, নিয়মনীতি না মেনে এই প্রচার চালানো হচ্ছে। তৃণমূল কর্মীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন এর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে। আইন ভাঙার দায়ে ক্রিমিনাল কেস হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সব মিলিয়ে শ্রীরামপুরের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে একদিকে যখন উন্নয়নের বার্তা দিলেন সাংসদ, অন্যদিকে আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ের আগে বিজেপি ও বিরোধী দলনেতাকে তীব্র আক্রমণ শানাতে ছাড়লেন না।

আরও পড়ুন- নাম না বদলালে খারাপ চেহারা দেখবে: এবার মনোজ বাজপায়ির সিনেমাকে হুঁশিয়ারি

_

_

_

_

_
_

