রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধির পর যখন ঘরে ঘরে খুশির হাওয়া, ঠিক তখনই ভাঙড়ের বিধায়ক শওকত মোল্লার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সম্প্রতি ভাঙড়ের প্রাণগঞ্জে একটি প্রস্তুতি সভায় দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক জানান, নির্দিষ্ট এলাকায় সমর্থন না মিললে সরকারি পরিষেবায় প্রভাব পড়তে পারে। তবে বিতর্ক দানা বাঁধতেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করেছেন, বিধায়কের বক্তব্যের নির্যাস জনসেবা ও কৃতজ্ঞতাবোধের সঙ্গেই সম্পর্কিত।

এদিন প্রাণগঞ্জের সভা থেকে শওকত দাবি করেন, চালতবেড়িয়া বা শানপুকুরের মতো যে অঞ্চলগুলোতে বিগত নির্বাচনে আইএসএফ জয়ী হয়েছে, সেখানে সরকারি প্রকল্পের গতি শ্লথ হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে বিরোধীরা সরব হলেও বিষয়টি স্পষ্ট করেছে শাসকদল। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘শওকত মোল্লা অত্যন্ত দক্ষ একজন সংগঠক। তিনি আসলে বোঝাতে চেয়েছেন কেন্দ্রের বঞ্চনার কথা। ২০১১ সালে বাংলায় পরিবর্তনের পর থেকে বিজেপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে। বাংলার আবাসের টাকা থেকে ১০০ দিনের কাজের বকেয়া— সব কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে কন্যাশ্রী থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সবার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে’।

কুণাল ঘোষের দাবি, শওকত মোল্লার বক্তব্যের মূল সুর ছিল ‘আবেদন’। যারা রাজ্যের এত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরা কেন উন্নয়নের কাণ্ডারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করবেন না— এই প্রশ্নটিই তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে তুলে ধরেছেন। কুণাল ঘোষের কথায়, শব্দগুলো একটু সাজিয়ে গুছিয়ে নিলেই বোঝা যায়, শওকত আসলে উন্নয়নের সপক্ষে জোরালো জনসমর্থনেরই আবেদন জানিয়েছেন। শাসকদলের অন্দরের ব্যাখ্যা, ভাঙড়ে আইএসএফের মোকাবিলায় কর্মীদের উজ্জীবিত করতেই তিনি এই কৌশল নিয়েছেন। তবে দিনশেষে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনমুখী প্রকল্প যে কোনো রাজনৈতিক ভেদাভেদ মানে না, সে কথাই বারংবার মনে করিয়ে দিচ্ছে তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন- সমাপ্ত হল আন্তর্জাতিক ক্রীড়া চলচ্চিত্র উৎসব, সেরার পুরস্কার জিতল কোন সিনেমাগুলি?

_

_

_

_

_

_
_
