অনলাইন গেমের নেশা যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার এক চরম নিদর্শন দেখল উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া। স্রেফ গেম খেলার নেশায় নিজের বাড়ি থেকেই ৯ লক্ষ টাকার গয়না চুরি করে মাত্র ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিল এক নাবালক। বাদুড়িয়ার পান্তাপাড়ার এই ঘটনায় রীতিমতো স্তম্ভিত এলাকাবাসী। পুলিশের তৎপরতায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও, কিশোরদের স্মার্টফোন আসক্তি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পান্তাপাড়ার ওই বাসিন্দা অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই সে মোবাইলে অনলাইন গেমে ভীষণভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছিল। গেমের পরবর্তী ধাপে যেতে বা বিশেষ সরঞ্জাম কিনতে গিয়ে টাকার প্রয়োজন পড়ে তার। অভিযোগ, সেই টাকার নেশাতেই বাবা-মায়ের নজর এড়িয়ে আলমারি থেকে প্রায় ৯ লক্ষ টাকার সোনা ও হিরের গয়না সরিয়ে ফেলে ওই কিশোর।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, গেম খেলার সূত্রেই অনলাইনে অর্জুন মল্লিক ও মনোজিৎ দাস নামে দুই যুবকের সঙ্গে আলাপ হয় ওই নাবালকের। সেই দুই যুবকের প্ররোচনাতেই গয়নাগুলি তাদের হাতে তুলে দেয় সে। আশ্চর্যের বিষয় হল, আকাশছোঁয়া দামের সেই গয়নার বিনিময়ে ওই কিশোরকে মাত্র ৪ হাজার টাকা দেয় ওই দুই যুবক। অর্থাৎ প্রায় পানির দরে কিশোরের সরলতার সুযোগ নিয়েছিল অভিযুক্তরা।

প্রথমে চুরির বিষয়টি পরিবারের অলক্ষ্যেই ছিল। গত ৭ ফেব্রুয়ারি আলমারি খুলতেই চোখ কপালে ওঠে বাড়ির লোকজনের। গয়না গায়েব হওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর বাড়ির বড়রা ওই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে সে এবং কবুল করে যে, গেম খেলার টাকা জোগাড় করতেই সে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে কিশোরের বাবা-মা অবিলম্বে বাদুড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে দ্রুত অর্জুন ও মনোজিৎকে গ্রেফতার করে এবং তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া সমস্ত গয়না উদ্ধার করেছে। তবে খোয়া যাওয়া সম্পদ ফিরে পেলেও সন্তানের এমন আচরণে কার্যত দিশেহারা ওই পরিবার। সমাজতাত্ত্বিকদের মতে, ছোটদের হাতে স্মার্টফোন দেওয়ার আগে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, নাহলে অনলাইন গেমের এই নেশা আগামী দিনে আরও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

আরও পড়ুন – রাজমিস্ত্রির মৃত্যু ঘিরে রণক্ষেত্র শাসন! ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ

_

_

_

_
_

