সাতসকালে সিউড়ি সদর হাসপাতালের শিশুবিভাগে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ। নিমেষের মধ্যে ধোঁয়ায় ঢেকে গেল ওয়ার্ড। ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্কিত হয়ে শিশুদের কোলে নিয়ে ছোটাছুটি শুরু করলেন পরিজনেরা। মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায় হাসপাতাল চত্বরে। যদিও বড়সড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, শিশুবিভাগে ভর্তি থাকা এক শিশুর মা একটি পুরনো কি-প্যাড মোবাইল ব্যবহার করছিলেন। এদিন সকালে তিনি ফোনটি চার্জে বসান। চার্জ দেওয়া শেষ হলে সেটি খুলে পাশের একটি ফাঁকা বেডের বালিশের ওপর রেখেছিলেন। সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ আচমকাই সশব্দে সেটি ফেটে যায়। বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে ওই মহিলা মোবাইলটি তড়িঘড়ি দূরে ছুড়ে ফেলে দেন। এর পরেই ফোনটি থেকে কালো ধোঁয়া বেরোতে শুরু করে।

মুহূর্তের মধ্যে ওয়ার্ডের মধ্যে থাকা অন্যান্য শিশুদের অভিভাবকরা ভয়ে চিৎকার শুরু করেন। হুড়োহুড়ি পড়ে যায় গোটা ঘরে। অভিযোগ, সেই সময় শিশুবিভাগের মূল ফটকে তালা দেওয়া থাকায় কেউ বাইরে বেরোতে পারছিলেন না। ফলে আতঙ্ক কয়েক গুণ বেড়ে যায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কর্তব্যরত নার্সরা দ্রুত গেটের তালা খুলে দিলে পরিজনেরা শিশুদের নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরে নিরাপত্তারক্ষীরা এসে ক্ষতিগ্রস্ত মোবাইলটি উদ্ধার করে বাইরে ফেলে দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। কিছুক্ষণ পর শিশুদের নিয়ে ফের ওয়ার্ডে ফেরেন মায়েরা।

হাসপাতালের সুপার প্রকাশ বাগ এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্পষ্ট জানান, ওয়ার্ডের ভেতরে মোবাইল রাখা বা চার্জ দেওয়া আইনত নিষিদ্ধ। সুপার বলেন, “হাসপাতালের নিয়ম অমান্য করেই ওই মহিলা লুকিয়ে মোবাইলটি ভেতরে এনেছিলেন। সেই অসতর্কতার ফলেই এই দুর্ঘটনা। তবে বরাতজোরে কেউ জখম হননি।” হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে নজরদারি আরও কড়া করা হবে।

আরও পড়ুন- গাইডলাইন মেনেই কমিশনের তালিকা, অপপ্রচারের অভিযোগ উড়িয়ে বিবৃতি নবান্নের

_

_

_

_

_
_


