Monday, April 13, 2026

ওয়াশিংটনের সিলমোহর: চিন-ভিয়েতনামকে টেক্কা দিয়ে আমেরিকার ঘরে ভারত

Date:

Share post:

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার ফলে বিশ্বের বৃহত্তম উপভোক্তা বাজার হিসেবে পরিচিত ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন অর্থনীতিতে ভারতের প্রবেশাধিকার এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। ভারতের শ্রমনির্ভর শিল্প থেকে শুরু করে উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেত্র— সর্বত্রই এই চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই চুক্তির অন্যতম প্রধান দিক হল শুল্ক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রফতানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু উচ্চ শুল্ক হারের কারণে ভারতীয় পণ্যগুলিকে প্রতিযোগিতায় কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হত। নতুন চুক্তিতে সেই বাড়তি শুল্কের বোঝা অনেকটাই লাঘব করা হয়েছে। বিশেষ করে চিন, ভিয়েতনাম বা বাংলাদেশের মতো প্রতিযোগী দেশগুলি যখন এখনও চড়া শুল্ক দিচ্ছে, সেখানে ভারতের জন্য এই ছাড় বিশ্ববাজারে দেশীয় পণ্যকে কয়েক কদম এগিয়ে রাখবে।

বস্ত্র, পোশাক, চামড়া, জুতো, রত্ন ও গয়না এবং খেলনা শিল্পের মতো ক্ষেত্রগুলিতে শুল্কের হার ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এই শুল্ক শূন্য করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভারতের কয়েক হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) সরাসরি উপকৃত হবে। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি এই ক্ষেত্রগুলিতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শিল্প মহলের মতে, ৩৮ বিলিয়ন ডলারের শিল্পপণ্য, যার মধ্যে ওষুধ ও রাসায়নিক সামগ্রী রয়েছে, সেগুলিতে অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার ভারতের শিল্পায়নে নতুন গতি আনবে।

কৃষি ক্ষেত্রেও এই চুক্তি এক ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে। প্রায় ১.৩৬ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হলেও, দেশীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলিকে বিশেষ সুরক্ষা কবচের আওতায় রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট কোটা এবং ধাপে ধাপে শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে রপ্তানি স্থিতিশীল করার কৌশল নেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এই চুক্তি এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর, সার্ভার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মতো কৌশলগত ক্ষেত্রে মার্কিন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ ভারতের ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ অভিযানকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি, উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও শল্য চিকিৎসার যন্ত্রপাতিতে ছাড় মেলায় দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবার মান বাড়বে এবং খরচ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই চুক্তি কেবল বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, বরং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন যুগের সূচনা। গুণমান যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমায় আগামী দিনে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্য আরও দ্রুত এবং কম খরচে পৌঁছাতে পারবে। সব মিলিয়ে, এই ঐতিহাসিক সন্ধি ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রপ্তানি নির্ভর প্রবৃদ্ধির পথকে সুনিশ্চিত করল।

আরও পড়ুন- কেন্দ্রীয় শ্রমকোডের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ধর্মঘটের সমর্থনে মিছিল

_

_

_

_

Related articles

IPL: চাপ বাড়ছে রাজস্থান দলের ম্যানেজারের, কড়া অবস্থান বিসিসিআইয়ের

আইপিএলের (IPL) প্রথম চার ম্যাচ জিতে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে আছে রাজস্থান রয়্যালস(Rajasthan Royals)। সুখের সময়ে দলের অস্বস্তি বাড়ালেন...

রবীন্দ্রসঙ্গীতকে বলেছে ‘রবিশঙ্কর’! ফের বাঙালি অস্মিতা তুলে শাহকে নিশানা অভিষেকের

"যারা বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য জানে না, তাঁরা বক্তব্য রাখছে। এক লাইন বাংলা পড়তে পারবে না। একটা শব্দ উচ্চারণ করতে...

গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথরবৃষ্টি! শ্রমিক বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ নয়ডা

শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল যোগীরাজ্য। লাঠিচার্জ পুলিশের, পাল্টা উর্দিধারীদের গাড়ি লক্ষ্য করে পাথরবৃষ্টি! সঠিক কর্ম পরিবেশ এবং বেতন বৃদ্ধির...

“উনি ২৯৪টি আসনের প্রার্থী! প্রধানমন্ত্রী হবেন না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী?” মোদিকে মোক্ষম খোঁচা তৃণমূল সুপ্রিমোর

বাংলার সব জায়গায় তিনিই প্রার্থী, কারণ তিনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister)। কিন্তু তাঁকে নকল করতে গিয়ে ২৯৪ আসনে...