ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ভারতের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবথেকে লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি আমেরিকা ভারতের সঙ্গেই করেছে। সবথেকে কম শুল্ক ধার্য হয়েছে ভারতীয় পণ্যের উপর। বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি (trade deal) স্বাক্ষরিত হওয়ার পর অঙ্কের হিসাবে সেটাই প্রমাণিত হয়। যদিও অঙ্কের পিছনে যে হিসাব রয়ে গিয়েছে তাতে আখেরে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির মুখে ভারতের বস্ত্র শিল্প (textile industry)। একদিকে ভারত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে (USA India trade deal) ক্ষতির মুখে ভারতের কৃষকরা। এবার আঘাত ভারতের বস্ত্র শিল্পেও।

ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক লাগু করার পর বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছিল ভারতের বস্ত্র শিল্প। ভারত থেকে যেসব সামগ্রী আমেরিকায় রফতানি হয় তার ২৯ শতাংশ বস্ত্র শিল্পের সামগ্রী। এর থেকে ভারতের রোজগার হয় ১০.৫ বিলিয়ন ডলার। সম্প্রতি মার্কিন চুক্তির পরে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক দাবি করেছে ভারতের সেই বস্ত্রের বাজারকে আমেরিকায় রফতানির (export) পরিমাণ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তির পরে সেই ছবিতে পরিবর্তন ঘটতে বাধ্য। ভারতের সামগ্রী আমেরিকায় রফতানি হবে ১৮ শতাংশ শুল্কে (tariff)। বাংলাদেশের সামগ্রীতে শুল্ক লাগু হয়েছে ১৯ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শূন্য ডিউটি (zero duty) লাগু করেছে আমেরিকা। যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় লাভজনক চুক্তি।

বাংলাদেশের উপর এই জিরো ডিউটি লাগু হওয়ার ফলে আমেরিকা থেকে তুলো বা সুতো কিনলে বাংলাদেশকে কোনও শুল্ক দিতে হবে না। সেই সুতো বা তুলোতে (cotton fibre) তৈরি বাংলাদেশের সামগ্রী আমেরিকায় ১৯ শতাংশ শুল্কে বিক্রি হবে। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে সুতো বা তুলোর উপর জিরো ডিউটি (zero duty) করা হয়নি। ফলে আমেরিকা থেকে সুতো বা তুলো কিনলে ভারতকে অতিরিক্ত শুল্ক (tariff) দিতে হবে। সেই সঙ্গে উৎপাদিত বস্ত্র বিক্রি করতে গেলে ১৮% শুল্ক।

বাংলাদেশের উপর এই জিরো ডিউটি লাগু হবার ফলে বাংলাদেশ আমেরিকা থেকে সুতো বা তুলো কিনবে এবার থেকে। যেখানে বাংলাদেশ ভারতের সুতির (Indian cotton) একটি বড় বাজার ছিল, সেই বাজারও এবার নষ্ট হওয়ার পথে। কারণ বাংলাদেশ লাভজনকভাবে আমেরিকা থেকেই সুতো কিনতে পারবে।

আরও পড়ুন : জনগণের উপর তিনগুণ কর: কর্পোরেট-বন্ধু, কৃষক-বিরোধী বাজেট নিয়ে সংসদে সরব অভিষেক

বাংলাদেশ জিরো ডিউটিতে কেনা সুতো দিয়ে তৈরি সামগ্রী আমেরিকার বাজারে অনেক কম দামে বিক্রি করতে পারবে। যেখানে ভারতকে পাল্লা দিতে হবে সেই দামের সঙ্গে। ফলে ভারতের তিরুপুর, সুরাট, পানিপথের মতো বস্ত্র শিল্পের (textile industry) ক্ষেত্রগুলিকে নতুন করে বাধার মুখে পড়তে হবে। যার উত্তর এখনও ভারত সরকার দিতে পারেনি।

–

–

–

